


নাইম পারভেজ গোয়াইনঘাট:
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ -) ঘোষিত সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বল্লাঘাট পিকনিক সেন্টার সংলগ্ন নদী তীরে গেলেই চোখে পড়ে সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের মহোৎসব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকা জিরো পয়েন্টের টিকলী থেকে রাতের আঁধারে নিয়ম ভেঙে বালু মিশ্রিত পাথর চুরি করে আনা হচ্ছে। এই অপকর্মের নেপথ্যে নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘কবির’ নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগ রয়েছে, কবির জিরো পয়েন্ট এলাকায় রাতের বেলায় বিজিবির টহল নৌকায় ডিউটি করার সুযোগে নিজের প্রভাব বিস্তার করে। সে রাত ২টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে বিশেষ ‘লাইন সিস্টেম’ গড়ে তুলেছে। প্রতি রাতে জিরো পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে বালু মিশ্রিত পাথর আনার সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে প্রতিটি নৌকা থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে সে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, কবির শুধু বেআইনিভাবে চাঁদা আদায় করেই ক্ষান্ত হয় না, বরং প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করে আসছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা নাম ভাঙিয়ে তার এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ এলাকার সাধারণ মানুষ ও পরিবেশবাদীরা।
সরকারি ইসিএভুক্ত এলাকা রক্ষায় এবং সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল। এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্বরত বিট পুলিশ কর্মকর্তা রাজীবসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, বিষয়টি দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত কবিরকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে জাফলংয়ের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।