


নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট:
সিলেটের গোয়াইনঘাটে স্থানীয় প্রভাবশালী হেলাল মেম্বারের বিরুদ্ধে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদী থেকে কোটি টাকার বালু উত্তোলন ও নদী দখলের মহোৎসব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ট্রলারে করে অবৈধভাবে বালু লুটপাট করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ থাকলেও, শিক্ষার্থীদের সাহসিকতাপূর্ণ প্রতিবাদের মুখে মাত্র কয়েক দিন আগে পিছু হটেছিল এই চক্রটি। তবে সেই ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার না হতেই ফের নদীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা।
স্কুলের বাচ্চাদের পথরোধ ও নদীর স্বাভাবিক চলাচলে বাধা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীর খেয়া পারাপারের নির্ধারিত ঘাটেই অবৈধ ট্রলার ও বালু উত্তোলনের সামগ্রী আটকে রেখেছিলেন অভিযুক্তরা। এর ফলে নদী পারাপারের সময় চরম ভোগান্তিতে পড়ে কোমলমতি স্কুল শিক্ষার্থীরা। ঘাটে অবৈধ ট্রলারের জটলা ও যাতায়াতে বাধার সৃষ্টি করায় সাধারণ মানুষ ও ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।
শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে সাময়িক পিছু হঠা দিনের পর দিন এমন নৈরাজ্য ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় শিক্ষার্থীরা। গত কয়েক দিন আগে স্কুলপড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা সংঘবদ্ধ হয়ে এর প্রতিবাদ জানান। তোপের মুখে একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে নদী থেকে অবৈধ বালুভর্তি ট্রলার ও ড্রেজার মেশিনগুলো সরিয়ে দেন এবং বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষের খেয়া পারাপারের ব্যবস্থা উন্মুক্ত করেন। ছাত্রদের এই সাহসী পদক্ষেপে সাময়িকভাবে স্বস্তি ফিরেছিল স্থানীয়দের মাঝে।
প্রশাসনের নীরবতায় ফের বেপরোয়া হেলাল মেম্বার চক্র
তবে শিক্ষার্থীদের সেই প্রতিবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে হেলাল মেম্বারের সিন্ডিকেট। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাব ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ফের নদীর বুক চিরে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এদিকে এই প্রতিবেদক হেলাল মেম্বারের অবৈধ এই বালু লুটপাটের ও ড্রেজারে ম্যাশিন সম্পর্কে তথ্যের জন্য ফোন করা হলে ( ০১৭১২২১***০৩) তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপ এ কল দিলে তিনি রিসিভ করেন নাই।
এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে একদিকে যেমন নদীভাঙন ও পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দেবে, অন্যদিকে যেকোনো সময় বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।