1. abkiller40@gmail.com : admin : Abir Ahmed
  2. ferozahmeed10@gmail.com : moderator1818 :
সিলেটে ইউপি মেম্বারের প্রতারণা: আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর হারিয়ে দিশেহারা ভূমিহীন রাফিয়া - Barta24TV.com

সিলেটে ইউপি মেম্বারের প্রতারণা: আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর হারিয়ে দিশেহারা ভূমিহীন রাফিয়া

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, July 28, 2026
  • 7 Time View

সিলেট ব্যুরো প্রধানঃ

সিলেটের খাদিমনগর ইউনিয়নে সরকারি গুচ্ছগ্রাম (আশ্রয়ণ প্রকল্প)-এর ঘর দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) নাজিম উদ্দিন ইমরানের বিরুদ্ধে।

সহায়-সম্বলহীন ভূমিহীন নারী রাফিয়া খাতুনকে (৩৩) প্রতারণার জালে ফেলে তাঁর নামে বরাদ্দকৃত ঘরের চাবি হাতিয়ে নিয়ে অন্য পরিবারকে অবৈধ দখল পাইয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিজের ঘর উদ্ধারের আকুল আবেদন জানিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

​প্রাপ্ত নথিপত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিলেট সদরের এয়ারপোর্ট থানাধীন ৩নং খাদিমনগর ইউনিয়নের কাকুয়ারপাড় গ্রামের আতাউর রহমানের মেয়ে ভূমিহীন রাফিয়া খাতুনকে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আওতায় ‘কেওয়াছড়া টি গার্ডেন’ মৌজার ৭৬ নম্বর দাগের গুচ্ছগ্রামে সরকারিভাবে একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয় (বন্দোবস্ত মামলা নং: ৭২/২১-২২, কবুলিয়ত নং ৪১৪, তারিখ: ২৪/০৪/২০২২ইং)। সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার পর রাফিয়া খাতুন উক্ত ঘরে ২/৩ মাস বসবাসও করেন।

২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় এবং পরবর্তীতে অসুস্থ পিতাকে দেখতে রাফিয়া খাতুন সাময়িকভাবে গ্রামের বাড়িতে যান। এ সুযোগে খাদিমনগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার নাজিম উদ্দিন ইমরান বিশ্বাস অর্জন করে রাফিয়ার কাছ থেকে ঘরের চাবি চেয়ে নেন। তিনি জানান, বন্যাদুর্গত একটি অসহায় পরিবারকে সাময়িকভাবে কিছুদিন সেখানে আশ্রয় দেওয়া হবে এবং রাফিয়া ফিরে এলে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে মেম্বারকে বিশ্বাস করে সহজ-সরল রাফিয়া ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন।

​পরবর্তীতে রাফিয়া খাতুন নিজের ঘরে ফিরতে চাইলে মেম্বার নাজিম উদ্দিন ইমরান নানা বাহানায় সময় ক্ষ্যাপন করতে থাকেন। একপর্যায়ে রাফিয়া চাপ সৃষ্টি করলে মেম্বার উল্টো তাঁকেই নিজের বরাদ্দকৃত ঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি-ধামকি দেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুরে রাফিয়া খাতুন তাঁর বরাদ্দকৃত ঘরের সামনে গিয়ে দেখতে পান সেখানে অবৈধভাবে বসবাস করছেন নিজাম উদ্দিন (৪০) ও তাঁর স্ত্রী লুবনা বেগম (৩৫) (বর্তমান ঠিকানা: মুড়ারগাঁও গুচ্ছগ্রাম)। রাফিয়া তাঁদের ঘর ছেড়ে দিতে বললে তাঁরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং দাবি করেন— উক্ত ঘর নাকি প্রশাসন ও মেম্বার নাজিম উদ্দিন ইমরান তাঁদের বুঝিয়ে দিয়েছেন। ঘর না ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে রাফিয়া খাতুনকে প্রাণনাশের ও ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দেয় দখলদার চক্রটি।
​শুধু তা-ই নয়, জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে রাফিয়া খাতুনের নামে বরাদ্দকৃত গৃহের বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটারও লুবনা বেগমের নামে করিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে রাফিয়া খাতুন জেন্তাস্থ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট অবৈধ মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিজ নামে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের আবেদন জানিয়েছেন।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী রাফিয়া খাতুন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ-বৈঠকের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সালিশ বৈঠকে খোদ অভিযুক্ত মেম্বার নাজিম উদ্দিন উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনো সুরাহা করেননি, বরং বিষয়টি গোপন রেখে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। কোনো উপায় না পেয়ে রাফিয়া খাতুন ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (সিলেট সদর) এবং পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ পেশ করেন।

​এ বিষয়ে ভুক্তভোগী রাফিয়া খাতুন বলেন, “আমি একজন অসহায় ও ভূমিহীন নারী। সরকার আমাকে মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় মেম্বার প্রতারণা করে আমার ঘরের চাবি নিয়ে আজ আমাকে গৃহহীন বানিয়ে দিয়েছে। আমি আমার নামে বরাদ্দকৃত সরকারি ঘর দ্রুত ফেরত চাই এবং এই প্রতারক চক্রের বিচার চাই।”

মেম্বার নাজিম উদ্দিন এর বক্তব্য নিতে গেলে বলেন, সরকারি ঘর হ্যা রাফিয়া খাতুন পেয়েছিলেন ঠিক কিন্তু তিনি তথ্য গুপন করে, নিজেকে অসহায় নারী দাবী করে ঘরটি পেয়েছিলেন, কিন্তু ঐ নারীর নামে যায়গা আছে বাদে আমরা জানতে পারি, তাই ইউওনো মেডাম অন্যজনকে ঘরটি দিয়েছেন, আমি এ বিষয় আর কিছু জানিনা। তবে তদন্ত চলছে যদি রাফিয়া বেগম ঘরটি পাওয়ার যোগ্য হয় তাহলে আমার কোন আপত্তি নাই, বা বর্তমানে ঘরটিতে যে বসবাস করছে, সে পাইলেও আমার আপত্তি নাই, তাহলে মেম্বার কিভাবে আগে রাফিয়া খাতুনকে ঘরটি পাওয়ার যোগ্য মনে করে বাচাই করলেন, এই প্রশ্ন থেকেই যায়।

রাফিয়া খাতুন এটাও বলেন আমার নামে ১ পয়েন্ট যায়গা নাই, এবং আমার বাবার নামেও কোন যায়গার দলিল নাই। আমি হাইকোর্ট অবধি যাবো।

ইউওনো অফিসার এর মুঠোফোনে বক্তব্য নিতে যোগাযোগ করা হলে ফোনে পাওয়া যায় নি।সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্প থেকে যেসব ঘরগুলো দেওয়া হয়েছে সরজমিনে সেখানে গেলে ভয়ংকর তথ্য মিলে, ৩-৪ টি ঘর যাদের নামে রয়েছে তারা এয়ারপোর্টে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে ও সরকারি ঘরটি ১২০০ করে অন্য লোকের কাছে ভাড়া দিয়ে দিয়েছেন, আরো জানা যায়, সরকারি প্রকল্প থেকে যে ঘরটি পাওয়া সিন্ডিকেট চক্র অন্যজনের কাছে ১ টি ঘর বিক্রি করে দেয়। ১ টি রুম এখনো তালাবদ্ধ রয়েছে। ঘরটির মালিক শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের নজর কামনা করেন অনেকেই।

​স্থানীয়দের মতে, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর এভাবে অবৈধ হস্তান্তরের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে রাফিয়া খাতুনকে তাঁর ঘর ফিরিয়ে দেওয়া এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category