

জামালপুর প্রতিনিধিঃ
জ্বিন তাড়ানোর কথা বলে মিষ্টির সঙ্গে মিশিয়ে চেতনানাশক খাওয়ানো হয় নববধূকে। এরপর কবিরাজের সহযোগী দিয়া নামে এক তরুণীর ঘরে রাতে শুয়ে রাখা হয় ওই নববধূকে। সকালে ঘুম ভেঙে উঠে ওই নববধূ নিজেকে উলঙ্গ দেখতে পায়। এরপর নববধূ বিষয়টি তার স্বামীকে জানায়।
স্বামী রবিন ঘটনাটি স্হানীয় মাতব্বর এবং নববধূর বাবা মাকে জানায়। ওই নববধূর বাবা মা দুজনেই ব্যবসার জন্য শরিয়তপুরে থাকেন।
তারাও বিষয়টি স্হানীয় মাতব্বরদের ফোনে জানান। বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে সময় নষ্ট করতে থাকেন স্হানীয় মাতব্বররা।টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে সফল না হলে স্হানীয় মাতব্বররা ভুক্তভোগী নববধূর বাবাকে মারধর করেন।এমনই ঘটনা ঘটেছে জামালপুর পৌর শহরের বাগেরহাটা এলাকায়।
এ নিয়ে সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে ভুক্তভোগী নববধূর স্বামী রবিন সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে রবিন বলেন , গত ১৮ ডিসেম্বর,অভিযুক্ত কবিরাজ আবুল হাসিম তার সহযোগী দিয়ার বাসার সামনে (কাচারীপাড়া দরবার শরীফ এর সামনে) আমার স্ত্রীকে নিয়ে আসতে বলে। আমি তার কথায় রাত নয়টার দিকে ওই স্থানে গেলে আমাকে সহ আমার স্ত্রীকে দিয়ার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় এবং আমার স্ত্রীকে বিভিন্ন ভাবে ঝাড়ফুক দেয়। ঝাড়ফুকের একপর্যায়ে অভিযুক্ত কবিরাজ আমার স্ত্রীকে একটি মিষ্টি খাইতে দেয়। আমার স্ত্রী মিষ্টিটি খাওয়ার পর সে শারীরিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন কবিরাজ ও তার সহযোগী দিয়া আজরাতে আমার স্ত্রীকে এই বাসা হতে বের করা যাবে না। তাকে বাড়ীর বাইরে নিয়ে গেলে তার ক্ষতি হবে। এ পরিস্থিতিতে ভয়ে ভুক্তভোগীকে ওই বাসায় রেখে যেতে বাধ্য হই। রাত দশটার দিকে ওকে রেখে ওই বাসা থেকে বের হয়ে চলে আসেন রবিন।
লিখিত অভিযোগে রবিন বলেন,পর দিন ১৯ ডিসেম্বর সকাল অনুমান ছয়টার দিকে তার স্ত্রী ঘুম ভেঙে উঠে তাকে ফোন দিয়ে জরুরী দিয়ার বাসায় যেতে বলেন।
আমি দেরি না করে অভিযুক্ত দিয়ার বাসায় যাই। আমি সেখানে গিয়ে শুনি, আমার স্ত্রী ঘুম ভেঙে উঠে দেখে তার শরীরে কোন কাপড় চোপড় নেই। তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে জানায়। তখন আমি দিয়াকে জিজ্ঞাস করলে সে কোন সদুত্তর না দিয়ে উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলতে থাকে। তখন আমি সহ আমার স্ত্রী বুঝতে পারি, অভিযুক্ত হাসিম দিয়ার সহযোগিতায় রাতের কোন একসময় বাসায় ঢুকে অচেতন অবস্থায় ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেছে। এ নিয়ে আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করলে আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন সহ আমাদের এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ওই ঘটনার বিষয়ে এলাকায় শালিশ দরবার করার কথা বলে সময় নেয়।
এ নিয়ে সময় নষ্ট করতে থাকেন স্হানীয় মাতব্বররা, অবশেষে গত ৩ জানুয়ারি রাত আটটার দিকে অভিযুক্ত হাসিমের ভাড়া বাসার সামনে একটি সালিশ দরবার শুরু হয়। সালিশের একপর্যায়ে অভিযুক্ত হাসিমসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জন উত্তেজিত হয়ে আমাকে সহ স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরে জখম করে।
মারধরের পর দ্রুত এলাকা ছাড়তে এবং পরবর্তীতে কোন ধরনের আইনি ব্যবস্হা না দিতে হুমকি দেয় বলে লিখিত অভিযোগে জানান রবিন।জানতে চাইলে অভিযুক্ত কবিরাজ হাসিম বলেন, আমার উকিল মেয়ে দিয়া কবিরাজি করে।তার ঘরে কী হয়েছে আমি জানিনা।
এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক এবং মিথ্যা। ওইদিন রাতে ভুক্তভোগী নববধূ অজ্ঞান হয়ে দিয়ার বাসায় ছিল বলে স্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন,
অভিযোগ পেয়েছি, যেহেতু ঘটনা দুই সপ্তাহ আগের তাই তদন্ত করে ব্যবস্হা নিতে হবে।