


মো গোলাম কিবরিয়া নড়াইল:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় দাফনের প্রায় ৬ মাস পর মফিজার মোল্যা নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে করা মামলার দেড় মাস পর তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঈশানগাতী কবরস্থানে দাফনকৃত মরদেহটি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেবক মন্ডল ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) কুমারেশ কুমার বিশ্বাস ও অন্যান্য পুলিশের উপস্থিতিতে কবর থেকে উত্তলোন করা হয়।
মরদেহ উত্তোলনের সময় কবরস্থান এলাকায় উৎসুক জনতার উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, দাফনের পর এভাবে মরদেহ উত্তোলনের ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তবে যদি সত্যিই কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের গত (২৬ এপ্রিল) রাতে মফিজার মোল্যাকে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমান বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ফাতেমা ও মশিয়ারের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি। ঘটনার কয়েক দিন পর তারা দুজন বিয়ে করে সংসার শুরু করেন বলে জানা যায়।
বিষয়টি জানাজানি হলে শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে এলাকায় আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমানকে আটক করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানায় নেওয়া হয়।
একই দিন শনিবার রাতে নিহত মফিজার মোল্যার মেয়ে মনিকা বেগম বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় তার মা ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমানের নাম উল্লেখ করে আরও ২ থেকে ৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। এ মামলায় মফিজার মোল্যার স্ত্রী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ভাটগাতী গ্রামের নিহত মফিজার মোল্যার স্ত্রী ফাতেমা বেগম এবং নিহতের বেয়াই একই ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামের শওকত রহমানের ছেলে মশিয়ার রহমানকে গ্রেফতার দেখিয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশ তাদের আদালতে পাঠায়।
সেই সময়ে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমান মফিজার মোল্যাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাদের ভাষ্য, গত (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার দিকে তারা মফিজারকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন।
হত্যার কারণ জানতে চাইলে ফাতেমা বলেন, তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চাননি। এ কারণে মশিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে তার স্বামীকে হত্যা করেন। তবে পরে তারা মফিজারের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন এবং পরদিন সকালে তার মরদেহ দাফন করা হয় বলে জানান।
মৃত ব্যক্তির মেয়ে মনিকা বেগম অভিযোগ করেন, তার মায়ের পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে তার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এমন অভিযোগের পর ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রথমত এটা ইউডি মামলা হয়েছিল, পরে এই বিষয়ে তথ্য উদঘাটন হয় যে এটি হত্যা এবং বর্তমান এটি হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হয়েছে। আদালতের অনুমতিতে মরদেহটি উত্তোলন করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি পুনরায় দাফন করা হবে।