


বার্তা ২৪ টিভি স্পোর্টস ডেস্কঃ
পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ জেতা যায়। যদি জেতার জন্য জেদ থাকে। সেই জেদ দেখিয়ে বাংলাদেশ ২-১ গোলে ম্যাচ জিতলো মালদ্বীপের বিরুদ্ধে। সিরিজের প্রথম ম্যাচ মালদ্বীপ জিতেছিল ১-০ গোলে। দ্বিতীয় ম্যাচে জিতে প্রীতি ম্যাচের সিরিজটা ড্র রাখতে সমর্থ হলো বাংলাদেশ।
প্রথমার্ধে গোল হজম। বিরতির আগেভাগে গোল শেষ। আর ইনজুরি টাইমে জয়সূচক গোল। পুরো ম্যাচকে এই তিন ভাগে ভাগ করতে পারে বাংলাদেশ। আর এই তিন পর্বে শেষের দুই পর্বে মালদ্বীপের চেয়ে বেশি ভালো ফুটবল উপহার দিয়েই ম্যাচ জিতলো বাংলাদেশ।
বসুন্ধরার ফুটবল এ্যারেনায় এই জয়টা অনেক প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য। জয়ের পর খেলোয়াড়দের বাধভাঙ্গা উল্লাস সেটাই জানান দিল।
একজনের পাহারায় দুজন। কিন্তু তারপরও মালদ্বীপের স্ট্রাইকার আলি ফাসিরকে আটকাতে পারলেন না বাংলাদেশের দুজন ডিফেন্ডার। এর মধ্যে তপু বর্মনের দোষটা একটু বেশি পড়ে। ঐ পজিশন থেকে কেন তিনি প্রতিপক্ষের পেছনে থাকবেন। শেষ পর্যন্ত থাকলেও সেই পেছন পেছন। আড়াআড়ি থাকা আরেক ডিফেন্ডারও দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখলেন বল জালে। আলি ফাসির যখন বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে গোল করলেন তখন ম্যাচের সময় ২২ মিনিট। এই আলি ফাসির আগের ম্যাচেও মালদ্বীপের জয়সূচক গোলের নায়ক। দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচেও সেই তিনিই দলকে এগিয়ে দিলেন।
গোল হজমের পর বাংলাদেশ যেন আরো ঘাবড়ে গেল। বল নিয়ে সামনে বাড়লো ঠিকই। কিন্তু ফাইনাল থার্ডে এসে খেই হারিয়ে বসা দল। ফিনিসিংই হচ্ছে না। সেই বন্ধ্যাত্ব দূর করলেন বিরতির খানিক আগে মুজিবুর রহমান জনি। ডি বক্সের বাইরে ব্যাক পাস থেকে বল গেল তার পায়ে। বল নিয়েই সামনে দাড়ানো ডিফেন্ডারকে আউট সাইড ডজে সরালেন। সেখান থেকে কোনাকুনি পোস্টে শট নিলেন। মালদ্বীপের গোলকিপার হুসেইন শরিফ লাফ দিলেন। কিন্তু তার হাতের নাগালের বাইরে দিয়ে বল সেকেন্ড পোস্ট দিয়ে জালে। জনির সেই গোলেই ম্যাচে সমতা (১-১)। আগের ম্যাচের বদলি হিসেবে নামা জনি দারুণ খেলেছিলেন। আর তাই এই ম্যাচে কোচ তাকে সেরা একাদশে নামালেন। কোচের সেই সিদ্ধান্তের মর্যাদা রেখে দলকে ম্যাচে সমতায় ফেরান জনি। জাতীয় দলের হয়ে এটি তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় দল। ১-১ গোলের সমতা নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে বাংলাদেশ। আক্রমণের তেজ বাড়িয়ে দেয়। ৮৪ মিনিটের সময় গোলের যে সুযোগ তপু বর্মন মিস করেন সেই রিপ্লে দেখলে হাত কামড়াবেন তিনি! দুর থেকে নেওয়া শট হাতে রাখতে ব্যর্থ হন মালদ্বীপের গোলকিপার শরিফ। বল তার হাতে লেগে বাউন্স খেয়ে সামনে যায়। ফিরতি সেই বলে তপু যে জোরে শট নিলেন তাতে বল মাঠের বাইরে। অথচ সামনে থাকা পুরো পোস্ট খালি ছিল! এমন গোলও তাহলে মিস হয়!
গোল মিসের সেই দুঃখ ভুলল বাংলাদেশ ম্যাচের ইনজুরি টাইমে। ৭ মিনিটের ইনজুরি টাইমের ৪ মিনিটের সময় দারুণ চমক দেখিয়ে গোল করলেন পাপন সিং। ক্যারিয়ারে এটি তার প্রথম গোল। সেই গোলে ম্যাচ জিতলো বাংলাদেশ এবং সিরিজও ড্র রাখলো।