


স্পোর্টস ডেস্কঃ
৫৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষম সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে প্রবাসী বাংলাদেশের ব্যাপক সমর্থন থেকেও টনিক নিতে পারেনি বাংলাদেশ দল। এএফসি এশিয়া কাপের ‘সি’ গ্রুপের বাছাইপর্ব থেকে বিদায় ঘন্টা অনেক আগেই বেজেছে। এই গ্রুপ থেকে এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অন্তত একটি পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল দলের বাড়ি ফেরার দিকে তাকিয়েছিল সমর্থকরা। তবে ৬ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। র্যাঙ্কিংয়ে ৩২ ধাপ এগিয়ে থাকা সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরে এশিয়া কাপ বাছাইপর্ব শেষ করেছে বাংলাদেশ।
৪-৩-৩ ফরমেশনে ২টি পরিবর্তন এনে একাদশ সাজিয়ে হাভিয়ের কারবেরা চেয়েছিলেন মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রন নিতে। গোলরক্ষক মিতুল মারমা এবং মোরসালিনের প্রত্যাবর্তন ম্যাচে বাংলাদেশের খেলা ভালই উপভোগ করেছে সিঙ্গাপুর প্রবাসী দর্শকরা। বল দখলে স্বাগতিকদের ছেড়ে কথা বলেনি বাংলাদেশ দল। বল পজিশনের পরিসংখ্যানে ছিল ফিফটি-ফিফটি। গোল লক্ষ্য করে নেয়া শটেও ছিল সমতা (২-২)। আক্রমনের সংখ্যার দিকে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ ১৪-৫-এ। তবে গোলের খেলা ফুটবলে কৌশলগত দিকে এগিয়ে গেছে সিঙ্গাপুর। ৩১ মিনিটের মাথায় ডিফেন্ডার তপুর ভুলে গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। ওই গোলই তৈরি করেছে ব্যবধান
তারপরও প্রথমার্ধে গোলের সেরা সুযোগটা পেয়েছিল বাংলাদেশ খেলার ১৪ তম মিনিটে। ডান প্রান্ত দিয়ে ওভারল্যাপিং করে সাদ উদ্দিন দিয়েছিলেন ক্রস সমিত সোমকে লক্ষ্য করে। তবে অনমার্কড সমিত সোমের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
খেলার ধারার বিপক্ষে গোল পেয়ে যায় সিঙ্গাপুর। খেলার ৩১তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে মধ্যমাঠ থেকে বল পেয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে সিঙ্গাপুর। ডি বক্স থেকে কুহেয়’র নেওয়া শট গোলরক্ষক মিতুল মারমা ঠেকিয়ে দিলেও বল বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ছোট ডি বক্সের সামনে দাঁড়ানো ইখসান ফান্দির পায়ে বল আসলে তার মার্কিংয়ে থাকা তপু বর্মন বল ক্লিয়ার করতে পারেননি। ইখসান দারুণ চতুরতার সঙ্গে বল বাড়িয়ে দেন হারিস স্টুয়ার্টের দিকে। তাঁর নিখুঁত প্লেসিং শটে বল জালে জড়িয়ে যায় (১-০)।
খেলার ৩৯তম মিনিটে সমতার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত থেকে আসা লম্বা থ্রো থেকে সাদ ও ফাহিমের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়া হওয়ার পর ফাহিমের শট ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়।
এক মিনিট পর বাঁ প্রান্ত প্রান্ত দিয়ে আক্রমন থেকে মোরছালিনের নেওয়া শট সিঙ্গাপুর ডিফেন্ডার বাহারুদিন ব্লক করার পরও ছিল সুযোগ। কিন্তু ফিরতি বলে ফাহিম যখন শট নিতে উদ্যত, তখন ডি-বক্সের ভেতর সিঙ্গাপুরের এক ডিফেন্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়ে যান ফাহিম। বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা সমস্বরে পেনাল্টির আবেদন জানালেও অস্ট্রেলিয় রেফারি তাতে সাড়া দেননি।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের খেলায় ছিল পরিকল্পনার ছাপ। বিশেষ করে ৭২ মিনিটের মাথায় ফাহমিদুলের জায়গায় মিরাজুল এবং মোরছালিনের জায়গায় বিশ্বনাথকে মাঠে নামানোয় শেষ ১৮ মিনিট একতরফা খেলেছে বাংলাদেশ। দুবার গোলের সুযোগও তৈরি করেছে এই সময়ে। মিড ফিল্ড থেকে উপরে উঠে হামজা চৌধুরীও চেষ্টা করেছেন সমতাসূচক গোলের।খেলার ৭৫ মিনিটের মাথায় ডান প্রান্ত থেকে সাদউদ্দিনের ক্রস পেয়ে ডি বক্সের বাইরে থেকে হামজা চৌধুরী দ্বিতীয় পোষ্ট লক্ষ্য নিয়েছিলেন শট। পোষ্টের উপর দিয়ে চলে যায় তা।
খেলার ৭৯ তম মিনিটে সমিত সোমের ফ্রি-কিক জটলার মধ্যে পেয়ে হামজা চৌধুরী পেনাল্টি বক্সে দারুণ এক ক্রস দিয়েছিলেন স্ট্রাইকার মিরাজুলকে উদ্দেশ্য করে। তবে হতভাগ্য বাংলাদেশ। মিরাজুলের নেওয়া শট গোলরক্ষক পরাস্ত হলেও দুর্ভাগ্যক্রমে গোলপোস্টে লেগে সেই শটটি প্রতিহত হয়। আশাভঙ্গ হয় হামজার দল।