


স্টাফ রিপোর্টারঃ ঢাকা মহানগরীর সড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত আসা ট্রাফিক সংক্রান্ত অভিযোগ বার্তাগুলো এখন এআই ক্যামেরার সহায়তায় দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে। ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের এই নতুন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ তাদের কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করেছে। এখন থেকে ট্রাফিক সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ, যেমন – সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, অবৈধ পার্কিং, জেব্রা ক্রসিং দখল, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, বা সিটবেল্ট না বাঁধার মতো বিষয়গুলো সরাসরি এআই ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে গত ৭ মে, ২০২৬ থেকে এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিকদের কাছে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, “আমরা চাই মানুষ যেন আইন মেনে চলে। এআই ক্যামেরা আমাদের এই কাজটি সহজ করে দিয়েছে। দৈনিক যে অভিযোগগুলো আসে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
রাজধানীর কারওয়ান বাজার সহ ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং বিজয় সরণি, ইন্টার কন্টিনেন্টাল, বাংলা মোটর, সোনারগাঁও-এর মতো স্থানে ইতোমধ্যে ১২০টির বেশি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে ৫০০টি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ক্যামেরাগুলো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে সক্ষম এবং দূর থেকে নিখুঁতভাবে নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারে। এর ফলে, যেকোনো অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ এবং দোষী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সহজ হচ্ছে।
তবে, নিবন্ধনহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকগুলো এখনো একটি চ্যালেঞ্জ। এদের বৈধ নম্বরপ্লেট ও চালকের লাইসেন্স না থাকায় আইন লঙ্ঘনের চিত্র ক্যামেরায় ধরা পড়লেও ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ডিএমপি এই সমস্যা সমাধানে আগামী ঈদুল আজহার পর এই ধরনের গাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি, এআই ক্যামেরার নামে প্রতারণামূলক এসএমএস পাঠিয়ে অর্থ আদায়ের বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে সাহায্য করছে এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে সহায়ক হচ্ছে।