


বিনোদন ডেস্কঃ
বাংলাদেশ টেলিভিশনের এক উজ্জ্বল ও স্মরণীয় নাম লুৎফুন নাহার লতা। বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের লেখা জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘বহুব্রীহি’, ‘এইসব দিনরাত্রি’ এবং ‘চর আতরজান’–এ অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি অল্প সময়েই দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন।
টেলিভিশনের পাশাপাশি ‘একাত্তরের লাশ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও তিনি প্রশংসিত হন। আশি থেকে নব্বই দশকে তিনি ছিলেন টিভি নাটকের সবচেয়ে ব্যস্ত অভিনয়শিল্পীদের একজন। একই সময়ে মঞ্চনাটকেও ছিল তাঁর সরব ও শক্তিশালী উপস্থিতি। তবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও সবকিছুকে বিদায় জানিয়ে ১৯৯৭ সালে তিনি পাড়ি জমান সুদূর আমেরিকায়। আর সেখানেই থেমে যায় তাঁর অভিনয় জীবনের ঝলমলে অধ্যায়,ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যান বিনোদনজগৎ থেকে।
আর এসময় ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী মেজর (অব.) নাসিরউদ্দিনের সঙ্গে লতার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে নিউইয়র্কপ্রবাসী লুৎফুন নাহার লতা মার্কিন নাগরিক মার্ক ওয়াইনবার্গকে বিয়ে করেন। পেশায় তিনিও একজন শিক্ষক।
লুৎফুন নাহার লতা,এক সাক্ষাৎকারে উপস্থাপকের প্রশ্ন ছিল—সাবেক স্বামীকে তিনি ক্ষমা করেছেন কি না। জবাবে লতা বলেন,“হ্যাঁ, অবশ্যই।
ধরে নেন কাউকে, আপনি ভালোবেসেছেন। আর সে আপনাকে চরম আঘাত দিয়ে গেল। তাঁকে যদি আপনি ক্ষমা করে দিতে পারেন আর নিজেকে দূরে রাখতে পারেন, এর চেয়ে ভালো জিনিস আর নেই। আমার জীবনে তো প্রচুর ভাঙাগড়া ও উত্থান–পতন ছিলো।
বর্তমান সময়ে সাবেক স্বামীকে নিয়ে কিছু বলতে চান কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,“তাঁর উদ্দেশে আমার কিছু বলার নেই, তিনি ভালো থাকুন। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে তিনি আমার ছেলের বাবা। আমার সন্তানকে নিয়ে আমি গর্বিত যে তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন লেখক। এর চেয়ে বড় উপহার আমি আমার সন্তানকে কিছু দিতে পারতাম না কখনোই। তিনি সন্তানের সঙ্গে হয়তো ছিলেন না, কিন্তু আমি সন্তানকে বলেছি—বাবাকে সব সময় শ্রদ্ধা করতে।”
এই কথাগুলোতেই ফুটে ওঠে লুৎফুন নাহার লতার পরিণত মানসিকতা, ক্ষমাশীলতা ও একজন মায়ের দায়িত্ববোধ। জনপ্রিয়তার আড়ালে থাকা মানুষটিও যে কতটা দৃঢ় ও মানবিক—সেই গল্পই বলে তাঁর জীবন।