


বিনোদন ডেস্কঃ
বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের ইতিহাসে যে কজন অভিনেত্রী তাঁদের নিজস্ব স্বকীয়তা, আভিজাত্য এবং শৈল্পিক রুচি দিয়ে দর্শকদের কয়েক দশক ধরে বুঁদ করে রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে সাদিয়া ইসলাম মৌ এবং অপি করিম অন্যতম। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে এবং দুই হাজার সালের শুরুতে তাঁরা দুজনেই ছোট পর্দার গ্ল্যামার আর অভিনয়ের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিলেন।
সাদিয়া ইসলাম মৌ মূলত দেশের একজন প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী হলেও ছোট পর্দায় তাঁর উপস্থিতি ছিল রাজকীয়। তাঁর অভিনয় দক্ষতার প্রধান শক্তি ছিল তাঁর গাম্ভীর্যপূর্ণ চাহনি আর জাদুকরী ব্যক্তিত্ব। মৌ যখন পর্দায় আসতেন, তাঁর দীর্ঘ দেহবল্লভ আর ফ্যাশন সচেতনতা দর্শকদের চোখ ধাঁধিয়ে দিত। তবে কেবল গ্ল্যামার নয়, ‘অলসপুর’ বা ‘নিশুতি রাতের ফুল’-এর মতো নাটকে তাঁর সাবলীল অভিনয় প্রমাণ করেছে তিনি কতটা উঁচুমাপের শিল্পী। তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী; বিশেষ করে বিজ্ঞাপনের জগতে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী রানী। মৌ নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যেখানে তিনি নিজেই একটি ব্র্যান্ড।
অন্যদিকে, অপি করিম ছিলেন বুদ্ধিবৃত্তিক এবং ছিমছাম অভিনয়ের প্রতীক। তাঁর অভিনয় দক্ষতার মূল জাদু ছিল তাঁর অত্যন্ত স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত বাচনভঙ্গি। অপি যখন কথা বলতেন, মনে হতো যেন পাশের বাড়ির মেয়েটি কথা বলছে। তাঁর সেই মায়াবী হাসি আর চশমা পরা চঞ্চল মেয়েটির ইমেজ আজও ভক্তদের হৃদয়ে অমলিন। ‘অপি’স ডায়রি’ কিংবা ‘ব্যাচেলর’ সিনেমার সেই জনপ্রিয় চরিত্রটি তাঁকে অনন্য উচ্চতা এনে দিয়েছিল। অভিনয়ের পাশাপাশি নাচ ও স্থাপত্যবিদ্যায় পারদর্শী হওয়ায় তাঁর প্রতিটি কাজের মধ্যে এক ধরণের পরিশীলিত রুচি ফুটে উঠত। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী এই অভিনেত্রী প্রমাণ করেছেন যে, কৃত্রিমতা ছাড়াই কেবল প্রতিভা দিয়ে দর্শকদের মণিকোঠায় স্থায়ী আসন গড়া সম্ভব।
মৌ এবং অপি—দুজন দুই ঘরানার শিল্পী হলেও তাঁদের মধ্যে একটি সাধারণ মিল ছিল, আর তা হলো তাঁদের আভিজাত্য। তাঁরা সস্তা জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে সবসময় মানসম্মত চিত্রনাট্যে কাজ করেছেন। আজও যখন ছোট পর্দার সোনালি দিনের কথা ওঠে, তখন মৌ-এর সেই স্টাইলিশ রাজকীয় রূপ এবং অপি করিমের সেই মিষ্টি ও বুদ্ধদীপ্ত অভিনয় ভক্তদের মনে পরম প্রশান্তি দেয়।