


মোঃ নিশাদুল ইসলাম নিশাদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ—এমনটাই বলা হয়। কিন্তু যখন এই দর্পণ ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যায়, তখন প্রতিফলিত সত্যও বিকৃত হতে শুরু করে। সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো স্বাধীনতা ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান। অথচ বর্তমান বাস্তবতায় দেশের অধিকাংশ মিডিয়া হাউজ এখন ব্যবসায়িক স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে সাংবাদিকদের মূল্যায়ন, মর্যাদা এবং স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
আজকের অনেক মিডিয়া হাউজের মালিকানা শিল্পপতি, ব্যবসায়ী কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের হাতে। তাদের মূল লক্ষ্য থাকে মুনাফা অর্জন—যা সাংবাদিকতার মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবাদ এখন অনেক সময় পণ্যে পরিণত হয়েছে, আর সাংবাদিকরা যেন সেই পণ্যের কারিগর মাত্র। সত্য প্রকাশ বা জনগণের পক্ষে কথা বলা অনেক সময় হয়ে পড়ে “ঝুঁকিপূর্ণ” কাজ, কারণ তা ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে না মেলাতে পারে।
এক সময় সংবাদকক্ষ ছিল মত প্রকাশের মুক্ত জায়গা; আজ সেখানে ‘স্পনসর’, ‘বিজ্ঞাপনদাতা’ ও ‘মালিকপক্ষের নির্দেশনা’ নীতির জায়গা নিয়েছে। সাংবাদিকরা তাদের মেধা, শ্রম ও সততা নিয়েও যখন মূল্যায়ন পান না, তখন পেশার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে যায়। অনেক দক্ষ সাংবাদিক বাধ্য হয়ে চাকরি ছেড়ে দেন বা অন্য পেশায় চলে যান। এভাবেই গণমাধ্যম ধীরে ধীরে জনমানুষের কণ্ঠস্বর থেকে দূরে সরে যায়।
গণমাধ্যম কেবল ব্যবসা নয়; এটি রাষ্ট্র ও সমাজের একটি স্তম্ভ। তাই সাংবাদিকদের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে মিডিয়া হাউজগুলোকে শুধু লাভের চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সম্পাদকীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে, সাংবাদিকদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে, এবং সংবাদকে বাণিজ্য নয়, দায়িত্ব হিসেবে দেখতে হবে।
ব্যবসায়ীরা হয়তো সংবাদপত্র চালাতে পারেন, কিন্তু সাংবাদিকতার মর্ম বোঝার গভীরতা আসে কেবল সংবাদকর্মীর মধ্যেই। তাই গণমাধ্যমের মালিকানা ও নীতিনির্ধারণে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে—সত্যের কণ্ঠস্বর একদিন পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।