1. abkiller40@gmail.com : admin : Abir Ahmed
  2. ferozahmeed10@gmail.com : moderator1818 :
এবার চট্টগ্রাম-সিলেট বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার নজর - Barta24TV.com

এবার চট্টগ্রাম-সিলেট বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার নজর

Reporter Name
  • Update Time : Monday, August 24, 2026
  • 9 Time View

অনলাইন ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্য কিংবা ইউরোপগামী ফ্লাইট ধরতে বছরের পর বছর ধরে চট্টগ্রাম ও সিলেটের যাত্রীদের ঢাকায় এসে ট্রানজিট নিতে হয়েছে। দীর্ঘ সড়কপথ, যানজট এবং অতিরিক্ত সময়ের কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের শুরুতেই বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে লাখো প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীকে। তবে সেই বাস্তবতা বদলে দিতে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশের অন্যতম বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেন্দ্রিক প্রচলিত অপারেশনাল কাঠামোর বাইরে গিয়ে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এর মাধ্যমে দেশের আকাশপথে একটি নতুন ব্যবসায়িক মডেল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েছে এয়ারলাইনসটি।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যাত্রীবাজারের একটি বড় অংশই চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রীর বাড়ি এই দুই বিভাগে। কিন্তু সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সীমিত সুযোগ থাকায় তাদের অধিকাংশকেই এখনও ঢাকা হয়ে বিদেশে যেতে হয়।

এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম ও সিলেটের আন্তর্জাতিক যাত্রীবাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে বিভিন্ন বিদেশি এয়ারলাইনস। ইউএস-বাংলার লক্ষ্য, এই বাজারে দেশীয় এয়ারলাইনসের উপস্থিতি শক্তিশালী করা এবং যাত্রীদের নিজ নিজ অঞ্চল থেকেই সরাসরি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ভ্রমণের সুযোগ তৈরি করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে ইউএস-বাংলার বহরে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন বোয়িং উড়োজাহাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চট্টগ্রাম ও সিলেটকেন্দ্রিক অপারেশনে ব্যবহৃত হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় চট্টগ্রামে সার্বক্ষণিক চারটি এবং সিলেটে অন্তত দুটি উড়োজাহাজ মোতায়েনের চিন্তা করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম ও সিলেটের যাত্রীদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ধরতে বাধ্যতামূলকভাবে ঢাকায় আসার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যেতে পারে। নিজ শহর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইউএস-বাংলার এই পরিকল্পনা কেবল যাত্রী পরিবহনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হাবভিত্তিক অপারেশনের অংশ হিসেবে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রকৌশল এবং অন্যান্য কারিগরি কার্যক্রমও ধীরে ধীরে চট্টগ্রাম ও সিলেটে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে দুটি বিমানবন্দরই ভবিষ্যতে শুধু যাত্রী ওঠানামার কেন্দ্র নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বাজারে প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেন দেশের যাত্রীরা, যার বড় অংশই চলে যায় বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর কাছে। ইউএস-বাংলার কৌশল হলো ঢাকাকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেটের নিজস্ব যাত্রীবাজারকে কেন্দ্র করে সেই বাজারের একটি বড় অংশ দেশীয় এয়ারলাইনসের আওতায় নিয়ে আসা।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, ঢাকা দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবেই থাকবে। তবে এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেটও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। ফলে এটি শুধু নতুন কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুট চালুর উদ্যোগ নয়, বরং বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ব্যবসায়িক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আনার একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে ইউএস-বাংলার এই ‘মেগা হাব’ পরিকল্পনাকে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category