


নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধিঃ
রাজধানীর উপকণ্ঠে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া পাকাপোল এলাকায় রূপালী ব্যাংকের জিঞ্জিরা শাখায় হানা দেওয়া তিন ডাকাতের মধ্যে দুজন কিশোর। আরেকজন তরুণ, যিনি গাড়ি চালান। তারা চারটি ‘খেলনা পিস্তল’ নিয়ে ব্যাংক ডাকাতি ও গ্রাহকদের জিম্মি করার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। তিন ঘণ্টা পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের আগে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আহম্মেদ মুঈদ।
ওই তিনজনের কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা উদ্ধারের তথ্যও জানান তিনি।তিনি বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা সব পিস্তলই নকল। এর মধ্যে তিনটি খেলনা পিস্তল আর একটি লাইটার। তাদের কাছ থেকে দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও র্যাব সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার ডাকাতদের জিম্মিদশা থেকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন গ্রাহককে উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকে ঢুকে পড়া ডাকাতদলকে গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া র্যাব ১০-এর পরিচালক (সিও) খলিলুর রহমান হাওলাদার বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে ব্যাংকে ঢোকা তিন ডাকাত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে সাড়া দিয়ে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে। তবে এর আগেই ঘটনাস্থলে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতদলের বেশ কিছু সদস্য পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার ডাকাতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে ডাকাতদলের সদস্যরা অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছে।
তাদের কাছ থেকে চারটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ব্যাংকের ভেতরে থাকা জিম্মিদের মধ্যে কেউ হতাহত হননি।
র্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, আত্মসমর্পণকারী ডাকাতরা নিজেদের নাম নিরব, নিলয় ও নিবিড় বলে জানিয়েছে। তাদের প্রত্যেকেই মাস্ক পরা ছিল। ডাকাতরা প্রাথমিকভাবে তাদের যে পরিচয় দিয়েছে, র্যাব তা খতিয়ে দেখছে।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চুনকুটিয়া রূপালী ব্যাংকটিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ডাকাতদল হানা দেয়। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় ব্যাংকে প্রবেশের পরপরই নিচতলায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও নিরাপত্তারক্ষীরা ডাকাতদের উপস্থিতি টের পেয়ে ব্যাংকের প্রবেশ ও বের হওয়ার দরজাটি বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী উপস্থিত হয়ে ব্যাংকটি ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনার পর বিকেল সাড়ে ৫টায় ডাকাতদলের তিন সদস্য আত্মসমর্পণ করে।
তিন ডাকাত আত্মসমর্পণ করার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে জিম্মিদের ব্যাংক থেকে বের করা হয় জানিয়ে সূত্র বলছে, দুপুরে কেরানীগঞ্জে রূপালী ব্যাংকের শাখায় ঢুকে ডাকাতদলের সদস্যরা গ্রাহক-কর্মকর্তাসহ ১২ জনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। বিষয়টি জানতে পেরে থানায় খবর দেয় স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাংক ভবন ঘিরে ফেলেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়। এক পর্যায়ে জিম্মি ব্যক্তিদের মুক্তির বিনিময়ে নিজেদের ‘সেফ এক্সিট’ দাবি করে ডাকাতদল। পরে আলোচনার মাধ্যমে যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে তারা।