

ওসমানীনগর (সিলেট)প্রতিনিধি::::
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রকাশ্যে ইয়ারগান ব্যবহার করে অতিথি পাখি নিধনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের একারাই গ্রামের হাজী আব্দুন নূরের পুত্র মো. হাবিব মিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওর ও জলাশয়ে শীত মৌসুমে ঝাঁকে ঝাঁকে আগত অতিথি পাখি নির্বিচারে শিকার করছেন। স্থানীয়দের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই তিনি প্রকাশ্যে ইয়ারগান দিয়ে এসব পাখি হত্যা করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আশ্রয় নিতে আসা অতিথি পাখিগুলোকে লক্ষ্য করে নিয়মিত গুলি চালানো হচ্ছে। শিকার করা পাখি দিয়ে ভুরিভোজের আয়োজন করা হচ্ছে, এমনকি তা বিক্রিও করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাবিব মিয়াসহ আরও কয়েকজন প্রকাশ্যে পাখি শিকার করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি না থাকায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. হাবিব মিয়া দায় স্বীকার করে বলেন,যা পারেন করেন।
এ বিষয়ে সিলেটের সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ নাজমুল আলম বলেন,অতিথি পাখি শিকার সম্পূর্ণ অবৈধ। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে তিনি সিলেটে সরকারি মিটিংয়ে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি শেয়ার করতে বলেন।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর শীত মৌসুমে দেশের হাওর ও জলাশয়গুলোতে হাজারো অতিথি পাখি আশ্রয় নেয়। এসব পাখি শিকার বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।