


বিশেষ প্রতিনিধি বিধান কুমার বিশ্বাসঃ
রাজবাড়ী জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইসহাক আলী এবং অফিস সহায়ক বখতিয়ারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ফরিদপুর সার্কেল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নিকট লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার মোঃ আনোয়ার হোসেন।
৪ঠা আগস্ট-২৫ তারিখে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, অফিস সহায়ক বখতিয়ার পূর্বে মাদারীপুর জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে কর্মরত অবস্থায় নানা অনিয়ম ও অপকর্মে জড়িত ছিলেন। সেসময় টানা ছয় মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে পরবর্তীতে টুঙ্গিপাড়ায় বদলি হন। কিন্তু সেখানেও নানা অপকর্মের কারণে আবার রাজবাড়ী সদরে বদলি করা হয়।
লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, রাজবাড়ী সদর অফিসে যোগদানের পর উপসহকারী প্রকৌশলী ইসহাক আলীর সঙ্গে মিলে বখতিয়ার স্থানীয় ও বাইরের একটি মাদক চক্রের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। বিভিন্ন সময়ে মাদারীপুর থেকে আসা চক্রের লোকজন অফিস এলাকায় অবস্থান করে, যা অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রাজৈর উপজেলায় দায়িত্বে থাকাকালীন ইসহাক আলী অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে এক ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক বিরোধে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। একই ধরণের অনিয়ম ও মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড রাজবাড়ী সদর অফিসেও অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইছাক আলী রাজৈর দায়িত্ব থাকাকালীন সময়ে ঠিকাদার ফরিদের নিকট ২০% কমিশন দাবী করেন জামানতের টাকা উত্তলনের সময়। পরবর্তী তা নিয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তাকে রাজবাড়ী ট্রান্সফার করেন। ইছাক আলী রাজবাড়ী বদলি হবার পর তার দুর্নীতি ও অপকর্মের ধারা বজায় রেখে চলেছেন। তিনি রাজবাড়ীতেও প্রথম শ্রেণীর টিকাদার এর নিকট ২০ হাজার টাকা দাবী করেন বিল করে দিতে।
উল্লেখ্য, অফিস সহায়ক বখতিয়ার একসময় নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নিজেকে সহকারী প্রকৌশলী পরিচয় দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অডিটের সামনে সাক্ষ্য প্রদান করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের কপি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ঢাকা এবং নির্বাহী প্রকৌশলী রাজবাড়ীসহ অনলাইনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকেও প্রেরণ করা হয়েছে।
তার অফিসে বক্তব্য নিতে যাবার পূর্বে প্রতিবেদকদের নিকট তথ্য আসে যে, তার অফিস কক্ষে মাদক কারবারি উপস্থিত রয়েছে। অভিযোগের বিষয়বস্তু নিয়ে রাজবাড়ী সদর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বক্তব্য দিতে রাজি না হলে জেলা কর্মকর্তাদের অনুমতি সাপেক্ষে বক্তব্য চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্বয় ক্যামেরার সামনে বক্তব্য রাখেন নাই। অনুমতি সাপেক্ষে পরবর্তীতে উপসহকারী ইছাক আলীর অফিস কক্ষে উপস্থিত ব্যাক্তিকে অভিযোগ সম্পর্কে তথ্যের সত্যতা যাচাই লক্ষে বিষয়টি জেলা কর্মকর্তাদয়ের অবগত করে তাকে প্রশ্ন করলে উপস্থিত মাদক কারবারির জানান, তিনি বিএডিসি থেকে বরখাস্ত উপসহকারী প্রকৌশল। তিনি ২৬শে জানুয়ারি-২৫ তারিখে স্মারক নং-১২.০৬.০০০০.২০৩.২৭.০০৫.২৫.১৮৪ মুলে ২৫শে সেপ্টেম্বর-২৪ তারিখে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার মামলা নং- ৪৫ ও জিআর ৫৮২/২৪ মামলাতে দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫ দঃবি তে ১৪ই নভেম্বর-২৪ গ্রেফতারের করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। বিএডিসির কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা ১৯৯০ এর প্রবিধি নম্বর ৪৫(৫) এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস পার্ট-১ এর বিধি ৭৩ অনুযায়ী তাকে গ্রেফতারের তারিখ হতে ১৪ নভেম্বর-২৪ হতে সংস্থার চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ কে এম মামুনুজ্জামান (উপসচিব) সচিব, বিএডিসি, ঢাকা কর্মকর্তার সাক্ষরিত পত্রে এ আদেশ করা হয়।
মামলা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে রাজবাড়ী সদর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ইছাক আলীর কক্ষে উপস্থিত ব্যক্তি রাজিব হোসেন জানান, বিএনপির পার্টি অফিস ভাঙা মামলার মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি রাজনৈতিক মামলার আসামি। কিন্তু বিশ্বস্ত সুত্রে জানাযায়, রাজিব হোসেন মাদক কারবারি ও উপসহকারী প্রকৌশলী ইছাকের মাধ্যমে রাজবাড়ী মাদক সাপ্লাই করেন।
অভিযোগকারী মোঃ আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, রাজবাড়ী সদর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে মাদকমুক্ত করা এবং অফিসের নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তিনি ১১ টা হতে ১২ টার আগে অফিসে আসেন না। নিয়ম-শৃঙ্খলা মান্য করে অফিস পরিচালিত হোক। মাদকমুক্ত হোক সদর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস।
এ বিষয়ে সদর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী ইছাক আলী সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার উর্ধতন কতৃপক্ষের অনুমতি থাকলেও ক্যামেরায় বক্তব্য প্রদান করেন নাই। কথোপকথন শেষ পর্যায়ে তিনি প্রতিবেদককে বাধাগ্রস্ত করার লক্ষে তার অফিস কক্ষে নানা রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের দিয়ে চাপ প্রয়োগ করেন। পরে প্রতিবেদক ফেরত চলে আসেন।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন রায় জানান, সম্প্রতি রাজবাড়ী সদরের উপসহকারী প্রকৌশলী ইছাক আলী ও অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বরাবর অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।