

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৫ (দুর্গাপুর-পুঠিয়া) আসনে প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলীয় দুই বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী। ফলে ভোট বিভক্তির আশঙ্কায় সুবিধাজনক অবস্থানে চলে এসেছে জামায়াতে ইসলামী—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তবে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী—পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ইসফা খাইরুল হক শিমুল (ঘোড়া) এবং যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার রেজাউল করিম (ফুটবল)—স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকায় বিএনপির ভোটব্যাংক বিভক্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে সংগঠিতভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামায়াত তাদের স্থায়ী ভোটব্যাংক ধরে রেখে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে রুহুল আমীন (হাতপাখা), বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির আলতাফ হোসেন মোল্লা (একতারা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আইনজীবী রায়হান কাওসার (মোটরসাইকেল) নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় থাকলেও মূল লড়াই ঘুরপাক খাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতকে কেন্দ্র করেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকলে এই আসনে ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এতে করে ভোটের হিসাব বদলে গিয়ে জামায়াত তুলনামূলক সুবিধা পেতে পারে।
উল্লেখ্য, রাজশাহী-৫ (দুর্গাপুর-পুঠিয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৩ জন।