

বার্তা ডেস্কঃ
লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দর। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে দুই সপ্তাহে কেজিতে বেড়েছে ২৫ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশি পেঁয়াজের মৌসুম শেষদিকে আসায় আর ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে, কোরবানি ঈদের অনেক আগে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় কারসাজি দেখছে ক্যাব।
এবার রমজানে ক্রেতার নাগালেই ছিল পেঁয়াজের দাম। দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জেও সরবরাহ ভালো ছিল। কিন্তু ঈদের পর থেকেই বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। দুই সপ্তাহে মানভেদে কেজিতে ১৫-২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাইকারি বাজারেই ২৮-৩২ টাকা কেজির পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫৬ টাকায়।
পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। বেশি দামের আশায় কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ মজুতের প্রবণতাও বেড়েছে। এর বাইরে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেশি পড়ায় বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে।
পেঁয়াজ বিক্রেতা বলেন, ‘হালি পেঁয়াজটা কিছুদিন মজুত রাখে কারণ সারা বছর বেঁচতে হবে, খেতে হবে। এ জন্য যখন প্রয়োজন হয় তারা তখন পেঁয়াজ বিক্রি করে, ধীরে ধীরে বিক্রি করে। এজন্য পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।’
অপর একজন পেঁয়াজ বিক্রেতা বলেন, ‘ভারতীয় পেঁয়াজ আসতেছে না। বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ নেই বললেই চলে। সবকিছু মিলিয়েই পেঁয়াজের দামটা একটু বেশি।’তবে, পাইকারি ব্যবসায়ীদের এসব কারণকে অজুহাত হিসেবে দেখছে ক্যাব। অধিক মুনাফার জন্য বাজারে নানারকম কারসাজি চলছে বলে অভিযোগ সংগঠনটির।
কনজিউমার রাইটস অব বাংলাদেশ( সিআরবি) এর সাবেক ব্রান্ড এম্বাসাডর এস এম ফিরোজ আহাম্মদ বলেন,যারা বলছে তারা কমিশন এজেন্ট,আড়তদার অথবা যারা আমদানিকারক আছেন তারা এগুলো বলে মানুষকে বোকা বানিয়ে একটা অলিখিত সিন্ডিকেট কাজ করে যায়। আবার যখনই দাম কমে যায় তখনই তারা বলে যে আমরা নিজেরা আমদানি করছি।’
এদিকে, পেঁয়াজের বাজারে এমন পরিস্থিতিতে তদারকি কার্যক্রম শুরুর কথা জানিয়েছে ভোক্তা অধিদপ্তর।ভোক্তা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘একজন কৃষকতো শত শত বস্তা বিক্রি করে না। তাহলে কৃষকের কাছ থেকে একটা ডকুমেন্ট রাখা অস্বাভাবিক কিছু না এবং সেটা রাখতে হবে, না হলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
পাইকারি বাজারের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। এরইমধ্যে খুচরায় ৬৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছে পেঁয়াজের কেজি।