


নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহ আজ চারটি জেলা নিয়ে গঠিত একটি বিস্তৃত প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরির প্রয়োজনে প্রতিদিন হাজারো মানুষ রাজধানী ঢাকা–র সঙ্গে যাতায়াত করেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মাত্র ১২৪ কিলোমিটারের এই রেলপথ পাড়ি দিতে আন্তঃনগর ট্রেনের সময় লাগে তিন থেকে চার ঘণ্টা। গড় গতি নেমে আসে ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার কিংবা তারও কমে।
একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে এমন ধীরগতির যাতায়াত কেবল ভোগান্তিই নয়, উন্নয়নের গতির সঙ্গেও বেমানান। একদিকে সড়কপথে যানজট, অন্যদিকে রেলপথে দীর্ঘসূত্রতা—দুইয়ের চাপে সাধারণ মানুষ কার্যত অবরুদ্ধ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারা তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই বাস্তবতায় ঢাকা–ময়মনসিংহ রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপন এখন আর বিলাসিতা নয়, অপরিহার্য প্রয়োজন। একক লাইনে ট্রেন চলাচলের কারণে প্রায়ই ক্রসিংয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, যা সময় নষ্টের বড় কারণ। ডাবল লাইন চালু হলে ট্রেনের গতি ও সংখ্যা—দুটিই বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে যাত্রীসেবার মান যেমন উন্নত হবে, তেমনি বাণিজ্যিক কার্যক্রমও গতিশীল হবে।
ময়মনসিংহ একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা নগরী। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আঞ্চলিক প্রশাসনিক কার্যালয়—সব মিলিয়ে এটি উত্তরাঞ্চলের এক প্রাণকেন্দ্র। এমন একটি বিভাগের সঙ্গে রাজধানীর দ্রুত ও আধুনিক রেলসংযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
ময়মনসিংহবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—ঢাকা–ময়মনসিংহ রেলপথে অবিলম্বে ডাবল লাইন স্থাপন এবং আধুনিকায়ন। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে; এখন প্রয়োজন এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটির প্রতি অগ্রাধিকারমূলক দৃষ্টি দেওয়া।
সময় বাঁচানো মানেই অর্থ সাশ্রয়, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। তাই বৃহত্তর জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে জোর দাবি—ঢাকা–ময়মনসিংহ রেলপথে ডাবল লাইন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা হোক। উত্তরাঞ্চলের মানুষের এই ন্যায্য প্রত্যাশা আর উপেক্ষিত না