1. abkiller40@gmail.com : admin : Abir Ahmed
  2. ferozahmeed10@gmail.com : moderator1818 :
প্রেমের টানে ফরাসী তরুণী লক্ষ্মীপুরে - Barta24TV.com
সকাল ১১:৫৮, বুধবার, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রেমের টানে ফরাসী তরুণী লক্ষ্মীপুরে

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬
  • 119 Time View

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

ভালোবাসা কখনো সীমান্ত মানে না, মানে না ভাষা কিংবা সংস্কৃতির পার্থক্য। ফ্রান্সের এক তরুণী আর বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুরের এক তরুণের প্রেমের গল্প যেন তারই প্রমাণ। ২০১১ সালে লক্ষ্মীপুরের আরিফুল ইসলাম রাসেল উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংল্যান্ড যান। সেখান থেকে ২০১৩ সালে তিনি ফ্রান্সে চলে যান সেই উচ্চ শিক্ষার জন্য। সেখানেই সিনথিয়া ইসলামের সঙ্গে রাসেলের পড়ালেখা এবং পরিচয়। তাদের পরিচয় ধীরে ধীরে গড়ায় গভীর সম্পর্কে। অবশেষে পরিবারের সম্মতিতে তারা বিয়ে করেন। সম্প্রতি ফ্রান্সের সেই তরুণী এসেছেন স্বামীর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে।

সিনথিয়া কখনো মেঠোপথে হাঁটছেন, কখনো হাওয়াই মিঠাই খাচ্ছেন, আবার কখনো স্থানীয়দের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠছেন তারা। বিদেশি হয়েও গ্রামের পরিবেশ আর মানুষের আন্তরিকতায় মুগ্ধ এই ফরাসি তরুণী।

আরিফুল ইসলাম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রাজিবপুর এলাকার সমসের উদ্দিন খলিফা বাড়ি মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে ও সিনথিয়া ফ্রান্সের লারোসাল শহরের পচিচ জুবের মেয়ে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে খ্রিষ্টান থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে লক্ষ্মীপুরের রাসেলের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সিনথিয়া। তার পূর্বের নাম ছিল অম। তাদের সংসারে ফুটফুটে দুটি সন্তান রয়েছে। এরমধ্যে মেয়ের নাম আমেনা ইসলাম (৬) ও ছেলে আলিফ ইসলাম (৪)। সম্প্রতি রাসেল স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে এসেছেন। মেঘনা নদী এলাকাসহ লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরে গ্রামীণ পরিবেশে আনন্দ উদযাপনের চিত্রও তাদের পেইজে তুলে ধরেছেন। পৃথিবীর বৃহৎ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারও তারা ঘুরে এসেছেন।

রাসেলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের কাছে বিদেশকে এবং বিদেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্য নিয়ে ২০২৪ সালে রাসেল এন্ড সিনথিয়া নামে ফেসবুক পেইজ খোলা হয়। এর আরেকটি উদ্দেশ্য রয়েছে সেটি হল মানুষের সঙ্গে পরিচিত ও যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। বর্তমানে পেইজে প্রায় ২.১ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশ বাংলাদেশী আর ৬০ শতাংশ বিদেশ থেকে। এরাবিয়ান দেশ থেকে আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি ফলো করে। একটা মানুষ যে পারফেক্ট হবে তা না, আমাদেরও ভুল থাকতে পারে। তারপরও যে বাংলাদেশের মানুষ যে আমাদেরকে এতটুকু ভালোবাসে এবং ভালোবাসা দেবে এটা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।

জানা গেছে, ২০১১ সালে রাসেল উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংল্যান্ড যান। সেখান থেকে ২০১৩ সালে তিনি ফ্রান্সে চলে যান সেই উচ্চ শিক্ষার জন্য। সেখানেই সিনথিয়ার সঙ্গে রাসেলর পড়ালেখা এবং পরিচয়।

এদিকে ইংরেজি জানলেও ফ্রান্সের মানুষ ফরাসি ভাষায় কথা বলেন। এতে সম্পর্কে মাঝখানে ভাষা জটিলতায় পড়েছেন রাসেল। সিনথিয়ার সঙ্গে কথা বলতে হলে তাকে সহযোগিতা নিতে হতো গুগল ট্রান্সলেটের। এভাবেই ১ বছর যায় তার ভাষা জটিলতা থেকে বের হতে। একপর্যায়ে সিনথিয়ারও বাংলা ভাষা শেখার জন্য আগ্রহ জাগে। তবে মনের মিলন থেকে তাদের ভাব হয়ে যায়।

রাসেল জানায়, সিনথিয়ার এক বান্ধুবিকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে যান তিনি। কিন্তু ঘটনাস্থলে সিনথিয়ার হাসিতে ফেঁসে গেলেন তিনি। মনে মনে ভাবেন যদি সিনথিয়া তার জীবনে আসে, তাহলে সবচেয়ে ভালো হবে। আল্লাহর নিয়তি, শেষে প্রেমের সম্পর্ক থেকে দুইজন এখন স্বামী-স্ত্রী।

বিয়ের বিষয়ে প্রথমে সিনথিয়ার বাবা রাজি হননি। তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। বিদেশে ১৮ বছরের মেয়েদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। এতে পরে তার বাবাকে অনুরোধ করে সে বাংলাদেশে আসে। ২০১৭ সালে লক্ষ্মীপুরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের মাধ্যমে তার নাম অম থেকে সিনথিয়া ইসলাম রাখা হয়। পরে ইসলামিক রীতিনীতি অনুযায়ী রাসেল ও সিনথিয়ার বিয়ে হয়। এনিয়ে সিনথিয়া ৫ বার শ্বশুর বাড়ি লক্ষ্মীপুরে এসেছে।

সাংসারিক জীবনে বিশ্বাস ও ভালোবাসার মাধ্যমে যেকোনো পরিস্থিতি মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা সিনথিয়ার অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন রাসেল। তার সুখে আছেন। বিদেশী অন্যান্য মেয়েদের চেয়ে সিনথিয়ার মন-মানসিকতাও অনেক ভালো। তার স্বামীর দাবি, সিনথিয়ায় সংসারকে সুখী রাখছে। এতে নিজের অবদান কম বলে জানালেন রাসেল। বাচ্চা হওয়ার আগে সিনথিয়া চাকরি করতো। এরপর তাকে উৎসাহ দিলেও বাংলাদেশের মায়েদের মতো সেও দায়িত্ববান হয়ে উঠে। এখন সে চাকরি করে না। রাসেলের আয়-উপার্জনেই এখন সুখী পরিবার তাদের।

রাসেল বলেন, আমার মাতৃভূমি বাংলাদেশ। দেশেতে আসতে হবেই। আমার বাচ্চাদের মায়ের দেশ হচ্ছে ফ্রান্স। সেটা ভোলা যাবে না। বাচ্চারা বাংলাদেশী এবং ফরাসিও। দুটিই আমি মানতে চেষ্টা করি। আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে পরবর্তীতে যদি কোন ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারি তাহলে আমি ৬ মাস বাংলাদেশে এবং ৬ মাস ফ্রান্সে থাকবো। বাচ্চাদেরকে আমাদের দেশের সংস্কৃতি শেখানো যাবে। সাথে তারা যেন তাদের মায়ের দেশের কথাও যেন না ভুলে। আমাদের জন্য দোয়া করবেন আমরা যেনো সুখী পরিবার হয়ে বেঁচে থাকি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category