

বিনোদন ডেস্কঃ
এক সময় বাংলাদেশের ছোট পর্দা মানেই ছিল নিলয় আলমগীর ও আনিকা কবির শখের মিষ্টি উপস্থিতি। পর্দায় তাদের রসায়ন এতটাই স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত ছিল যে দর্শকের কাছে তারা শুধু একটি অভিনয় জুটি নয়, বরং বাস্তব জীবনের এক আদর্শ প্রেমের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তাদের অভিনয়ে ছিল তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, ভালোবাসার সরলতা আর সম্পর্কের গভীর অনুভূতি। প্রতিটি নাটকে তারা একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠতেন, যা দর্শকের মনে এক আলাদা জায়গা তৈরি করে দেয়।
নিলয় আলমগীরের অভিনয়ে ছিল সংযম, ভদ্রতা ও বাস্তবতার ছোঁয়া। তার চোখেমুখে প্রকাশ পেত চরিত্রের ভেতরের আবেগ, যা সহজেই দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যেত। অন্যদিকে আনিকা কবির শখের অভিনয়ে ছিল প্রাণচঞ্চলতা, মাধুর্য ও দৃঢ়তা। তিনি কখনো কোমল, কখনো দৃপ্ত, আবার কখনো আবেগপ্রবণ চরিত্রে নিজেকে অনবদ্যভাবে তুলে ধরতেন। এই দুইয়ের মেলবন্ধনে ছোট পর্দায় তৈরি হয়েছিল এক স্বপ্নময় জগৎ।
পর্দার ভালোবাসা এক সময় বাস্তব জীবনের ভালোবাসায় রূপ নেয়। তারা ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন, যা দর্শকদের কাছে ছিল এক রূপকথার মতো ঘটনা। সবাই ভেবেছিল এই জুটি শুধু পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও চিরস্থায়ী সুখের উদাহরণ হয়ে থাকবে। তাদের বিয়ে ছিল প্রমাণ যে অভিনয়ের আবেগ কখনো কখনো বাস্তবতার সঙ্গে মিলেমিশে যায়।
কিন্তু জীবন সব সময় গল্পের মতো সহজ হয় না। সংসার মানে শুধু ভালোবাসা নয়, বরং দায়িত্ব, বোঝাপড়া ও সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এক কঠিন বাস্তবতা। ধীরে ধীরে সেই স্বপ্নের জগতে বাস্তবতার ছায়া পড়ে। ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত ব্যস্ততা, চিন্তাভাবনার ভিন্নতা এবং সময়ের চাপে তাদের সম্পর্ক আর আগের মতো মসৃণ থাকেনি। অবশেষে সেই সংসার ভেঙে যায়, কিন্তু ভালোবাসার স্মৃতি মুছে যায়নি।
আজও নিলয় আলমগীর ও আনিকা কবির শখকে মানুষ মনে করে এক সময়ের আদর্শ জুটি হিসেবে। তাদের গল্প মনে করিয়ে দেয়, জনপ্রিয়তা ও ভালোবাসা সব সময় একই পথে চলে না, তবু তাদের একসাথে কাটানো সময় বাংলাদেশের ছোট পর্দার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে।