


স্পোর্টস ডেক্সঃ
বাংলাদেশের জিততে দ্বিতীয় ইনিংসে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩০ রান। সেই লক্ষ্যে হেসে খেলেই পৌঁছে গেছেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়, পাকিস্তানের মাটিতেও প্রথম। বিদেশের মাটিতে সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সপ্তম জয় এটি।
সব সংস্করণ মিলিয়ে এর আগে পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশ ২০ ম্যাচ খেলে হেরেছিল ২০টিতেই। সবদিক থেকেই এই টেস্ট জয়টি অনন্য এক কীর্তি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে টেস্টে প্রথমবার ১০ উইকেটের জয়ের রেকর্ড। দেশের বর্তমান বাস্তবতা এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণে পাকিস্তান সফরের আগে এই দলটাই ছিল একেবারে আলোচনার বাইরে। অথচ সেই দলটাই পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানের পূর্ণ শক্তির দলকে হেসেখেলে হারাল।
সেটাও কোনো বিশেষ নৈপুণ্যে নয়। পুরোপুরি দলীয় পারফরম্যান্সে। প্রথম ইনিংসের কথাই ধরুন। টেস্টের প্রথম দিনে রাওয়ালপিন্ডির ভেজা উইকেটের সুবিধা নিয়ে ১৬ রানেই ৩ উইকেট ফেলে দিয়েছিলেন পেসাররা। ব্যাটসম্যানেরা মাঝের দুই দিনে ভালো কন্ডিশনের সুযোগ নিয়েছেন। এরপর শেষদিনে ভেঙে যাওয়া উইকেটের সুবিধাটা নিলেন সাকিব-মিরাজরা।
বাংলাদেশের ফিল্ডিং ভুলে গেলেও চলবে না। উদাহরণ হিসেবে লিটন দাসকে নিতে পারেন। বাবর আজমের একটি ক্যাচ মিস করার পরও পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত ফিল্ডিং করেছেন লিটন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৬টি ডিসমিসালের সঙ্গে জড়িত ছিলেন লিটন।
সর্বশেষ তিন বছরে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশরে বোলারদের গড় সবচেয়ে ভালো। ২২ গড়ে উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা।আজ রাওয়ালপিন্ডিতে এমন গড় বা এর চেয়ে ভালো কিছু করার প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের।
দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ২৩ রান তুলে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের চতুর্থ দিনটা শেষ করেছিল পাকিস্তান। বাংলাদেশকে আবারও ব্যাট করাতে ৯৪ রান দরকার ছিল দলটির। উইকেটে ছিলেন আবদুল্লাহ শফিক ও শান মাসুদ। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদকে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন হাসান মাহমুদ।
৬৭ রানে ৪ উইকেট হারানো পাকিস্তান এরপর পাল্টা আক্রমণের পথ বেছে নেয়। শফিককে সঙ্গে নিয়ে রিজওয়ান গড়েন ৩৬ বলে ৩৭ রানের জুটি। রিজওয়ানই ছিলেন আক্রমণের নেতৃত্বে, শফিক খেলছিলেন দেখেশুনে। তবে সাকিবকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সাদমানের হাতে ক্যাচ দেন এই ওপেনার। পরের ওভারেই মিরাজ ফেরান সালমান আলী আগাকে।আর এতেই১৪৬ রানেই অলআউট হয় পাকিস্তান, যা টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বনিম্ন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান : ৪৪৮/৬ ডি. ও ১৪৬ (রিজওয়ান ৫১, শফিক ৩৭, বাবর ২২, মাসুদ ১৪; মিরাজ ৪/২১, সাকিব ৩/৪৪)।
বাংলাদেশ: ৫৬৫ ও ৩০/০ (জাকির ১৫*, সাদমান ৯*)।
ফল: বাংলাদেশ ১০ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মুশফিকুর রহিম।
সুএঃ দৈনিক অভিযোগ বার্তা