

মোঃ নিশাদুল ইসলাম নিশাদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করায় মো. মুন্নাফ (৬৭) নামের এক বৃদ্ধকে বে-ওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে সংগঠনটির উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব মেড্ডায় বেওয়ারিশ লাশের কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এ নিয়ে সংগঠনটি মোট ২৪৫টি বে-ওয়ারিশ লাশ দাফন করল।
এর আগে গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন-এর ১ নম্বর প্লাটফর্মের পার্সেল গেট সংলগ্ন এলাকায় অসুস্থ হয়ে মারা যান মুন্নাফ। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল-এর মর্গে। পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনাস্থল থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে এবং তার পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে পরিচয় নিশ্চিত করে। তিনি ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের মালিকান্দা গ্রামের মৃত আব্দুল মুজিদ মোল্লার ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মুন্নাফের পৈতৃক বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে একজন ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিনটি বিয়ে করেন। দ্বিতীয় সংসারে তার দুই মেয়ে এবং তৃতীয় সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। পরিচয় শনাক্তের পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা মরদেহ গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। ফলে মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের উদ্যোগে তাকে বে-ওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এই কাজটি করে যাচ্ছি। পরিবার না নিলেও একজন মানুষ যেন মর্যাদাপূর্ণ দাফন পান, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।
এ বিষয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও শীতজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণে আগ্রহ না দেখানোয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের সহায়তায় দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।