

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়ের সাময়িক বরখাস্ত প্রভাষক ইলিয়াস সানির দুর্নীতির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের এপিএস ছিলেন। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার এই অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।
দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনক্রমে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় জামালপুর থেকে এই অনুসন্ধান শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মির্জা আজমের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ইলিয়াস সানি এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণ প্রকল্প, বিশেষ করে টিআর, জিআর, এডিবি ও কাবিখা কর্মসূচিতে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সরকারি বরাদ্দ পেতে তাঁকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দিতে বাধ্য করা হতো। শুধু ত্রাণ প্রকল্প নয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকা প্রণয়ন ও বরাদ্দের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন সমবায় সমিতির মাধ্যমে জনগণের বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনায়ও ইলিয়াস সানির নাম উঠে এসেছে। প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহকের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সমিতির মালিকদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের আন্দোলন দমিয়ে রাখেন তিনি। বিনিময়ে বাগিয়ে নেন মোটা অঙ্কের টাকা।
উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরেও তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। মাদারগঞ্জ উপজেলায় নির্মিত ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন শেখ হাসিনা সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাটি ভরাট ও সংশ্লিষ্ট কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর নামে ও ঘনিষ্ঠদের নামে ফ্ল্যাট, জমি, গাড়িসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।
ইলিয়াস সানির বিরুদ্ধে শিক্ষা খাতেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজে প্রভাষক ও তাঁর স্ত্রী আফসানা আক্তারের সেকশন অফিসার পদেচাকরি বাগিয়ে নেন। ৫ আগস্ট স্ত্রীসহ আত্মগোপনে চলে যান তিনি।
২০২৪ সালের আন্দোলনে ছাত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে ইলিয়াস সানিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। চাকরিচ্যুত করা হয় তাঁর স্ত্রী আফসানা আক্তারকে।যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ইলিয়াস সানি বা তাঁর স্ত্রীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় জামালপুরের সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামানের ভাষ্য, ইলিয়াস সানির দুর্নীতির বিষয়ে প্রকাশিত খবর ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। সানির দুর্নীতিসহ তাঁর বিপুল সম্পদ অর্জনের উৎসও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে ইলিয়াস সানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।