


স্পোর্টস ডেস্কঃ
আয়ারল্যান্ডের ঐতিহাসিক জয়কে রুখতে পারলো না অভিষেক শর্মার ঝড়ো ফিফটিও, বাঁচাতে পারল না ভারতকে; দলগত নৈপুণ্যে ৩৪ রানের দাপুটে জয় তুলে নিল আয়ারল্যান্ড।
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা ছিল আগুনঝরা। অভিষেক শর্মা মাত্র ২০ বলে ফিফটি করে ম্যাচকে ভারতের নিয়ন্ত্রণে এনে দিয়েছিলেন। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ২টি ছক্কা। পাওয়ার প্লেতে ভারত খুব সহজেই রান তুলছিল। মনে হচ্ছিল ম্যাচ দ্রুত ভারতের হাতেই চলে যাবে।
কিন্তু অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকে। সঞ্জু স্যামসন মাত্র ৫ রান করে আউট হন। ইশান কিশান ও শ্রেয়াস আইয়ার চরম ব্যর্থ হন। বিশেষ করে আইয়ারের ধীরগতির ৩ রান ভারতের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়।
অভিষেক শর্মা আউট হওয়ার পর ভারতের ব্যাটিং একেবারে ভেঙে পড়ে। তিলক ভার্মা ১৯ রান করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। শিভম দুবে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন তিনি ১৪ বলে ২৫ রানের ইনিংসে ম্যাচে ফেরার আশা জাগিয়েছিলো কিন্তু তাঁর আউট হওয়ার পরই ভারতের শেষ আশা নিভে হয়ে যায়।
আজ আয়ারল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন ম্যাট হলার্ড। চার ওভারে ২৮ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়ে তিনি ভারতের মিডল অর্ডারকে ধসিয়ে দেন জাই মুনদ্রাও অসাধারণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন, তিনি গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ভারতের প্রত্যাবর্তনের পথ বন্ধ করে দেন।
এছাড়া ম্যাথিউ হামফ্রিজ শেষদিকে ভারতের আরও দুই উইকেট নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন,ভারতের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল পার্টনারশিপ গড়তে না পারা। একমাত্র অভিষেক ছাড়া আর কোনো ব্যাটার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি। টপ অর্ডারের ব্যর্থতা, মিডল অর্ডারের অস্থিরতা এবং প্রয়োজনের সময় বড় শট খেলতে না পারার কারণেই আজ ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে ভারতের।
অন্যদিকে আয়ারল্যান্ড দল হিসেবে অনেক বেশি সংগঠিত ক্রিকেট খেলেছে। ব্যাটিংয়ে মাঝের ওভারে ঘুরে দাঁড়ানো, শেষদিকে দ্রুত রান তোলা এবং পরে পরিকল্পিত বোলিং—সব মিলিয়ে তারা পুরো ম্যাচেই আত্মবিশ্বাসী ছিল, বিশেষ করে ফিল্ডিং ও ক্যাচিংয়ে আইরিশদের তীক্ষ্ণতা চোখে পড়ার মতো ছিল।
সব মিলিয়ে এটি ছিল আয়ারল্যান্ডের জন্য স্মরণীয় এক জয় এবং ভারতের জন্য বড় সতর্কবার্তা। টি-টোয়েন্টিতে ছোট দল বলে কাউকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ আর নেই—বেলফাস্টে সেই বাস্তবতাই আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল