

মো: নিশাদল ইসলাম নিশাদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাসরিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোঃ দুলাল মিয়া নামে এক ভুক্তভোগী ।তিনি দাবি করেন,আদালতের স্থিতাবস্থা থাকা সত্বেও আদালতের আদেশ অমান্য করে মোটা অংকের লেনদেনের বিনিময়ে সহকারি কমিশনার তার নামে সৃজনকৃত খারিজা খতিয়ান বাতিল করে প্রতিপক্ষের নামে অন্যায়ভাবে নতুন খারিজা খতিয়ান সৃষ্টি করেছেন। আদালতের আদেশ অমান্য করে খারিজা খতিয়ান বাতিল করায় তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হয়েছে ।তবে সহকারি কমিশনার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন আদালতের আদেশের আগেই উল্লোখিত খারিজা খতিয়ান বাতিল হয়েছে ।
অভিযোগকারী সদর উপজেলার তালশহর (পূর্ব)ইউনিয়নের তেলীনগর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মোঃ দুলাল মিয়া গত সোমবার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, সদর উপজেলাধীন উপজেলাধীন মোহনপুর মৌজাস্থিত নালিশা বি,এস ৬৫০ দাগের ১৩ শতক ভূমি ১/১ খতিয়ানভুক্ত হওয়াই জনৈক আব্দুস সামাদ তার মালিকানার সমর্থনে সংশ্লিষ্ট কাগজ পত্র দাখিলক্রমে নামজারী জমা খারিজ মোকদ্দমা নং -২১৫০ /২০০৬-২০০৭ মূলে ২৪৫ নং খারিজা খতিয়ান সৃজনক্রমে সরকারি খাজনাদি পরিশোধ করে ভোগদখল করতে থাকেন। পরবর্তীতে উল্লেখিত নালিশা ভূমি টাকার বিশেষ প্রয়োজনে তিনি জনৈক কামাল উদ্দিনের কাছে সাফকবলা দলিলমূলে বিক্রি করে স্বত্ব ও দখল বুঝিয়ে দেন। কামাল উদ্দিন ক্রয়সূত্রে উল্লেখিত ভূমির মালিক হয়ে নামজারী জমা খারিজ মোকদ্দমা নং-১৯৮০৯-২০২৪-২৫ দায়েরক্রমে তার নামে ২৫-৬৩১ নং খারিজা খতিয়ান সৃষ্টি করে সরকারি খাজনাদি পরিশোধক্রমে ভোগদখলে থাকাবস্থায় ২০২৫ সালের ৩০ মে ১১২৮৮ নং রেজিষ্ট্রিকৃত সাফকবলা দলিলমূলে অভযোগকারী দুলাল মিয়া ও জনৈক রুহুল আমীনের কাছে বিক্রি করে স্বত্ব ও দখল বুঝিয়ে দেন।
এমতাবস্থায় অভিযোগকারী দুলাল মিয়া ও রুহুল আমীন নালিশা বি,এস ৬৫০ দাগের ১৩ শতক ভূমি ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে ভোগদখলে থাকাবস্থায় জমা খারিজ মোকদ্দমা নং ২৬৯-২০২৫-২৬ মুলে তাদের নিজ নামে ২৫-৬৪২ নং খারিজী খতিয়ান সৃজন করে ভোগদখল করতে থাকেন। নালিশা ভিটি ভূমিতে তারা ফলদ ও কাঠের গাছ রোপনসহ শাকসবজি চাষ করে ভোগ দখলে রয়েছেন।
এদিকে একই ইউনিয়নের অষ্টগ্রাম গ্রামের জলফু মিয়ার ছেলে জনৈক মোজাম্মেল হক নালিশা বি,এস ৬৫০ দাগের ভূমি নিজের দাবি করে গত ২০২৫ সালে ৮ সেপ্টেম্বর সদর সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবরে ২৫-৬৪২ নং খারিজী খতিয়ান বাতিলের জন্য লিখিত আবেদন করেন।ওই লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে সহকারি কমিশনার (ভূমি) নালিশী ভূমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অষ্টগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তাকে লিখিত নির্দেশ প্রদান করেন। সহকারি কমিশনারের নির্দেশের প্রেক্ষিতে গত ১৪/১০/২০২৫ ইং তারিখে ১৬৬ স্মারকমূলে অষ্টগ্রাম ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান মিয়া স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে,উল্লেখিত নামজারী মোকদ্দমা নং-২৬৯(ওঢ-ও)২০২৫-২৬এর আদেশমূলে সৃজিত ২৫-৬৪২ নং নামজারী খতিয়ানভুক্ত হালে বি,এস ৬৫০ দাগের ১৩ শতক ভিটা ভূমির সাথে আবেদনকারী (মোজাম্মেল হক) আবেদনের সাথে সংয্ক্তু দলিলে উল্লেখিত দাগের কোন মিল নেই ।
লিখিত অভিযোগে দুলাল মিয়া আরও দাবি করেন,এদিকে ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকার্তার প্রতিবেদনে মোজাম্মেল হকের মালিকানা না থাকা সত্বেও সার্ভেয়ার রফিকুল ইসলাম,নাজির তানবীর উল ইসলাম আরিফ মোজাম্মেল হক কর্র্তৃক মোটা অংকের অবৈধ লেনদেনে বাধ্য হয়ে অভিযোগকারীর খারিজা খতিয়ান ২৫-৬৪২ বাতিলের তৎপরতা শুরু করলে অভিযোগকারীর নামীয় ২৫-৬৪২ খারিজা খতিয়ান যাতে বাতিল করতে না পারে সেজন্য দরখাস্তকারী মোঃ দুলাল মিয়া বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ মোজাম্মেল হক, সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাসরিন এবং সার্ভেয়ার রফিকুল ইসলামকে বিবাদী করে গত ৪/০১/২০২৬ ইং তারিখে সদর সহকারি সিনিয়র জজ আদালতে চিরন্তন নিষেধাজ্ঞার মামলা করেন (নং-দেঃ ১১/২৬)। ওই মামলায় যাতে দরখাস্তকারীর সৃজিত খারিজা খতিয়ান (২৫-৬৪২) বাতিল করতে না পারে সেজন্য গত ৬/১/২০২৬তারিখে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত বিবাদীদের ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর আদেশ দেন। কিন্তু উল্লেখিত সময়ের মধ্যে বিবাদীরা কোন প্রকার জবাব না দেওয়ায় বিজ্ঞ আদালত উল্লেখিত খারিজা খতিয়ান (২৫-৬৪২) যাতে বাতিল করতে না পারে সেজন্য গত ১৪/১/২০২৬ স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। তিনি দাবি করেন, বিজ্ঞ আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশের পরও গত ১৫/১/২০২৬ ইং তারিখে সহকারি কমিশনার আদালতের আদেশ অমান্য করে মোঃ দুলাল মিয়া ও রুহুল আমীন নামীয় খারিজা খতিয়ান (২৫-৬৪২)বাতিল করেন।
এদিকে আদালতের স্থিতাবস্থার মাঝে উল্লেখিত খারিজা খতিয়ান (২৫-৬৪২) বাতিল করায় সহকারি কমিশনর (ভূমি)সহ মূল মোকদ্দমার (দেঃ-১১/২৬)বিবাদীদের বিরুদ্ধে সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন অভিযোগকারী দুলাল মিয়া ও তার সহঅংশীদার রুহুল আমীন (ভায়োলেশন নং-৩/২৬)।
এ বিষয়ে সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাসরিন এর সাথে যোগাযোগ করলে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তাকে ট্রেপে ফেলার জন্য এ অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার শুনানী হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, মামলা হওয়ার আগেই খতিয়ান বাতিল করা হয়েছে । আবার এর আগে তিনি বলেছিলেন মামলার বিষয়টি তিনি জানতেন না ।
এ বিষয়ে জানার জন্য জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানকে একাধিকবার ফোন করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।