

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশের বেতার ও টেলিভিশন সংবাদ পাঠের ইতিহাসে যে ক’জন কণ্ঠ শ্রুতিমধুরতা, সাবলীলতা ও ব্যক্তিত্বের স্বতন্ত্র ছাপ রেখে গেছেন—সংবাদ পাঠক আমিনুল হক তাঁদের অন্যতম।
মহান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকেই তিনি বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে সংবাদ পাঠের সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর স্পষ্ট উচ্চারণ, পরিমিত বাচনভঙ্গি ও সংযত উপস্থাপনা শ্রোতা-দর্শকের কাছে তাঁকে করে তোলে বিশেষভাবে প্রিয় ও বিশ্বাসযোগ্য। সংবাদ পাঠকে তিনি কেবল পেশা নয়, এক ধরনের শৈল্পিক দায়বদ্ধতার জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন।
আমিনুল হক জন্মগ্রহণ করেন ২৮ ডিসেম্বর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামে। তাঁর আদি পিতৃনিবাস ছিল সিলেটের জকিগঞ্জে। শিক্ষাজীবনে তিনি চট্টগ্রামের কলেজিয়েট স্কুল ও চট্টগ্রাম গভর্নমেন্ট কলেজে অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে কেমিস্ট্রি ও পলিমার কেমিস্ট্রিতে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি ১৯৬৫ সাল থেকেই করাচিতে বেতার ও টেলিভিশনে সংবাদ পাঠ শুরু করেন তিনি—যা তাঁর প্রতিভা ও আত্মবিশ্বাসের এক উজ্জ্বল প্রমাণ।
১৯৭২ সালে তিনি এ্যাটর্নি জেনারেল কমিশনে চাকরিজীবন শুরু করেন। এরপর দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি জিয়া ফার্টিলাইজার (চট্টগ্রাম), আইসিডিডিআরবি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, কাফকো, ব্র্যাক ব্যাংক, অ্যাকশন এইড, একটেল, নাভানা এবং সর্বশেষ এবি ব্যাংকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সজ্জন ও পরিমিত। সংবাদ পাঠক নাসরিন আমিনের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনে তাঁর এক পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে। কন্যা সামারা তাহিবা আমিন বর্তমানে নিউইয়র্কে বসবাস করছেন।
৯ জানুয়ারি ২০১১ সালে, রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র ৬৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে সে সময় গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করেছিলেন তাঁর একসময়ের সতীর্থ রোকেয়া হায়দার, সরকার কবিরউদ্দিন, মামুন সেরাজুল মজিদসহ আরও অনেক খ্যাতিমান সংবাদ পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী।
সংবাদ পাঠের মার্জিত ধারা, কণ্ঠের দৃঢ়তা ও ব্যক্তিত্বের সৌম্যতায় আমিনুল হক আজও স্মরণীয়।আজ তার মৃত্যু বার্ষিকীতে বার্তা ২৪ পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুম আমিনুল হকের জন্য দোয়া রইলো।