

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট (সিলেট) |
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলাজুড়ে বিভিন্ন হাওর, খাল, বিল ও নদীতে অবাধে চায়না জাল ও কারেন্ট জালের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এক শ্রেণির অসাধু জেলের নির্বিচারে মাছ নিধনের ফলে দেশি প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্তির পথে। একই সাথে হুমকির মুখে পড়েছে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকা।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথেই কিছু অসাধু জেলে রাত পোহালেই নদী ও হাওরের মোহনায় অত্যন্ত ক্ষতিকর চায়না জাল পেতে রাখে। এ ছাড়া দিনের বেলাতেও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে পোনা মাছসহ ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ধরা হচ্ছে। এতে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অতীতে তারা এক জালে ৫-১০ কেজি মাছ পেতেন। কিন্তু বর্তমানে চায়না ও কারেন্ট জালের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে পোনা মাছও রেহাই পাচ্ছে না। তাদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে নদীতে আর কোনো মাছই পাওয়া যাবে না।
পরিবেশবিদ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে ‘ভয়ানক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তারা বলছেন, চায়না জালের ফাঁস খুব ছোট হওয়ায় মাছের রেণু ও পোনাও রক্ষা পায় না। অন্যদিকে কারেন্ট জাল পানির তলদেশের সব জলজ প্রাণী মেরে ফেলে, যার ফলে সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
এই অবৈধ মৎস্য নিধন রোধে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সুধীজন। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি, গোয়াইনঘাট উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কালাম সিকদার বলেন, “অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। মোবাইল কোর্ট ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে এসব অবৈধ জাল জব্দ করতে হবে। যদি এই ধ্বংসযজ্ঞ এখনই বন্ধ না করা হয়, তবে আমাদের হাওরের মাছ একসময় কেবল বইয়ের পাতাতেই দেখা যাবে।”
জনসচেতনতা বাড়াতে তাদের সংগঠনের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ হালিম, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আমিন ও দপ্তর সম্পাদক সোহেল আহামেদ-কে সাথে নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাবো।”
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, केवल প্রশাসনিক অভিযান নয়, অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধে স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি।
গোয়াইনঘাটের সচেতন মহল ও স্থানীয় জেলেদের জোরালো দাবি, অবৈধ জালের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হোক এবং দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে হাওর-নদীর সম্পদ ও মৎস্যজীবীদের অস্তিত্ব রক্ষা