

বিনোদন ডেস্কঃ
ষাটের দশক ছিল বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) চলচ্চিত্র শিল্পের শৈশব ও কৈশোরের সন্ধিক্ষণ। সেই সময়ে ঢাকার রুপালি পর্দাকে যাঁরা আপন মহিমায় আলোকিত করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন সুলতানা জামান এবং সুমিতা দেবী। তাঁরা কেবল অভিনেত্রী ছিলেন না, বরং ছিলেন এক একটি প্রতিষ্ঠান, যাঁদের হাত ধরে এদেশের চলচ্চিত্র আধুনিকতার পথে যাত্রা শুরু করেছিল।
অভিনয় দক্ষতা ও শৈল্পিকতা: সুলতানা জামান ছিলেন আভিজাত্য ও লাবণ্যের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। তাঁর অভিনয় ছিল অত্যন্ত পরিমিত ও মার্জিত। ১৯৫৯ সালে ‘মাটির পাহাড়’ ছবির মাধ্যমে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও, ‘চান্দা’, ‘মালা’ এবং ‘উজালা’-র মতো উর্দু ও বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। তাঁর চোখের চাহনি ও শান্ত অভিব্যক্তি চরিত্রের গভীরতাকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলত।
অন্যদিকে,সুমিতা দেবী-কে বলা হয় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ‘ফার্স্ট লেডি’। তাঁর অভিনয় জীবনের শুরু ‘আসিয়া’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। জহির রায়হানের কালজয়ী ছবি ‘কাঁচের দেয়াল’-এ তাঁর অভিনয় আজও চলচ্চিত্রের ছাত্রছাত্রীদের জন্য পাঠ্য। সুমিতা দেবীর অভিনয়ের বিশেষত্ব ছিল তাঁর তীব্র আবেদনময়ী অথচ গাম্ভীর্যপূর্ণ উপস্থিতি। তিনি যেকোনো সাধারণ দৃশ্যকে তাঁর বলিষ্ঠ বাচনভঙ্গি দিয়ে অসাধারণ করে তুলতে পারতেন।
জনপ্রিয়তা ও প্রভাব: জনপ্রিয়তার দিক থেকে তাঁরা দুজনেই ছিলেন তৎকালীন দর্শকদের স্বপ্নের নায়িকা। সুলতানা জামান তাঁর সৌন্দর্যের কারণে যেমন জনপ্রিয় ছিলেন, তেমনি সুমিতা দেবী জনপ্রিয় ছিলেন তাঁর বহুমুখী প্রতিভার কারণে। তাঁরা এমন এক সময়ে অভিনয় করেছেন যখন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা অনেক বেশি ছিল, কিন্তু তাঁরা তাঁদের মেধা দিয়ে সেই দেয়াল ভেঙে বের হয়ে এসেছিলেন।
সুলতানা জামান ও সুমিতা দেবী কেবল পর্দার তারকা ছিলেন না, তাঁরা ছিলেন আমাদের চলচ্চিত্রের অগ্রজ পথপ্রদর্শক। তাঁদের শক্তিশালী অভিনয় আর ব্যক্তিত্ব আজও নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের অনুপ্রেরণা জোগায়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের ইতিহাসে এই দুই মহীয়সী নারীর নাম চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।