

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
সম্প্রতি “সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া চাঁদা নয়” — এমন একটি বক্তব্য ঘিরে জনমনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবতা ও যুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বিষয়টির গভীরে গেলে ভিন্ন চিত্রই স্পষ্ট হয়।
অনেকে মনে করেন, প্রকৃত অর্থে সমঝোতা তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন দুই পক্ষের সমান স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে। অর্থাৎ কেউ ‘না’ বললেও তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ক্ষতি, ভয়ভীতি বা হয়রানির আশঙ্কা থাকবে না। কিন্তু বাস্তবে সড়কে চলাচলকারী অনেক চালকের অভিযোগ—টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের দেরি করানো, অযথা বাধা সৃষ্টি কিংবা বিভিন্নভাবে হয়রানির মুখে পড়তে হয়। ফলে তারা স্বেচ্ছায় নয়, বরং পরিস্থিতির চাপে টাকা দিতে বাধ্য হন। সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিকে সমঝোতা বলা যায় না; বরং এটি একধরনের বাধ্যতামূলক আদায়।
-কোনো অর্থ আদায় যদি আইনসম্মত হয়, তবে তার নির্দিষ্ট হার, বৈধ কর্তৃপক্ষ এবং প্রমাণস্বরূপ রসিদের ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। কিন্তু যেখানে এসবের কোনোটি নেই, সেখানে “সমঝোতা” শব্দ ব্যবহার করে অর্থ আদায়কে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অর্থ আদায় করলে, সেটিকে যে নামেই ডাকা হোক না কেন, তার প্রকৃতি পরিবর্তিত হয় না। শব্দের রূপ বদলালেই বাস্তবতা বদলায় না। তাই “চাঁদা” শব্দের পরিবর্তে “সমঝোতা” ব্যবহার করলেই সেটি বৈধ হয়ে যায়—এমন ধারণা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মত দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে স্বচ্ছতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।