


মোকছেদুল ইসলাম,নওগাঁ জেলাঃ
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা, ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা উৎসবমুখর জনপদে পরিণত হয়।
ভোর ৬টা ৩ মিনিটে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। এরপর নজিপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এক পর্যায়ে পত্নীতলা উপজেলা প্রশাসন, পত্নীতলা থানা, উপজেলা আনসার-ভিডিপি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, নজিপুর পৌরসভা, পত্নীতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফায়ার সার্ভিস, প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, দলিল লেখক সমিতি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে শহীদ বেদি ভরে তোলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আলীমুজ্জামান মিলন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল মিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালিদ সাইফুল্লাহ, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ রায় এবং পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান আসাদ। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।সকাল ৯টায় নজিপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস, স্কাউটস এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
সালাম গ্রহণ শেষে বক্তারা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে এসে পত্নীতলা আজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে এবং নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় অডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ও স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম আয়োজন করা হয়।
এছাড়া সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয় এবং হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নত মানের খাবার বিতরণ করা হয়।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি ভবনগুলো রঙিন আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের এই দিনে তরুণ প্রজন্মের চোখেমুখে ছিল ‘স্মার্ট পত্নীতলা’ এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার নতুন স্বপ্ন ও দৃপ্ত প্রত্যয়।