


নাজমুল ইসলাম চৌধুরী:
রাতে ঘুম না আসার অনেক কারণ থাকতে পারে যার মধ্যে প্রধান হলো প্রেম-ভালোবাসা,অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ,হটাৎ করে কিছু হাতের নাগালেই পেয়ে হারালে,প্রিয় মানুষ বদলে গেলে, মোবাইল বা ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের নীল আলো যা মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয় এবং কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা।
এছাড়াও,ঘুমের নিয়ম না মানা, ক্যাফেইন বা ভারী খাবার গ্রহণ করা, এবং জীবনযাত্রার অন্যান্য বিষয়ও এর জন্য দায়ী হতে পারে।
প্রেম ভালোবাসা: কাউকে মন থেকে ভিষন ভালোবাসলে, তার প্রতি যত্নশীল থাকা কালীন মূহুর্তে যদি ছেড়ে চলে যায়, অন্যদিকে হটাৎ করে কারো প্রতি ভালোলাগা-ভালোবাসা কাজ করা শুরু করলে, বলতে না পারার কারন বা হারানোর ভয়ে এমনটা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
মানসিক কারণ
দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ: অতিরিক্ত চিন্তা বা অবসাদ হলে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে এবং পুনরায় ঘুম আসতে অনেক সময় লাগে।
অনিদ্রা (Insomnia): এটি একটি ঘুম-সম্পর্কিত ব্যাধি যার কারণে ঘুমিয়ে পড়তে বা একটানা ঘুম বজায় রাখতে অসুবিধা হয়।
জীবনযাত্রার কারণ মোবাইল ও স্ক্রিনের ব্যবহার: ঘুমানোর আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভি দেখলে এর নীল আলো মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়, যা ঘুম আসতে বাধা দেয়।
অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস: একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে না চললে, বা রাতে দেরিতে ঘুমালে ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
খাবার ও পানীয়: রাতে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় বা ভারী খাবার খেলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
শারীরিক ও অন্যান্য কারণ
শারীরিক অসুস্থতা: কিছু শারীরিক অসুস্থতা এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।ক্লান্তি: শারীরিক বা মানসিক ক্লান্তিও একটি বড় কারণ হতে পারে।এমনকি প্রিয় মানুষের কথাও মনে পড়া আরেকটি বিশেষ কারন।
করণীয়:
একটি নিয়মিত ঘুমের রুটিন তৈরি করুন, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ওঠা অন্তর্ভুক্ত থাকে। ঘুমানোর আগে মোবাইল এবং অন্যান্য স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন। ঘুমের আগে বই পড়া, উষ্ণ স্নান করা, বা শান্ত সঙ্গীত শোনার মতো আরামদায়ক কাজ করুন। মানসিক চাপ কমাতে হালকা ব্যায়াম বা ধ্যানের সাহায্য নিতে পারেন।
ঘুম না হলে জোর করে শুয়ে না থেকে একটু হেঁটে আসতে পারেন, তবে বিছানা থেকে অতিরিক্ত সময় দূরে থাকবেন না। যদি সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।