

বিনোদন ডেস্কঃ
কলকাতার চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসে আশি এবং নব্বইয়ের দশক ছিল পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক ড্রামার এক স্বর্ণালী সময়। আর সেই সময়ের সিনেমার কথা উঠলে যে জুটিটি প্রতিটি মধ্যবিত্ত বাঙালির ঘরের মানুষের মতো হয়ে উঠেছিলেন, তাঁরা হলেন রঞ্জিত মল্লিক ও চুমকি চৌধুরী। এই জুটির রসায়ন কেবল রোমান্সের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল এক আদর্শ সমাজ ও পরিবারের প্রতিচ্ছবি।
অভিনয় দক্ষতা ও সাবলীল রসায়ন: রঞ্জিত মল্লিকের অভিনয় দক্ষতার প্রধান শক্তি ছিল তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং বলিষ্ঠ সংলাপ প্রক্ষেপণ। তিনি যখন পর্দার অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতেন, তখন দর্শকরা হলে সিটি বাজিয়ে তাঁকে সমর্থন জানাত। অন্যদিকে, অঞ্জন চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ কন্যা চুমকি চৌধুরী ছিলেন স্নিগ্ধতা ও সারল্যের প্রতিমূর্তি। তাঁর শান্ত চাহনি এবং মায়াবী অভিনয় রঞ্জিত মল্লিকের তেজস্বী অভিনয়ের সাথে এক চমৎকার ভারসাম্য তৈরি করত। বিশেষ করে অঞ্জন চৌধুরীর নির্দেশনায় ‘ছোট বউ’, ‘মেজো বউ’ বা ‘বড় বউ’-এর মতো সিনেমাগুলোতে তাঁদের উপস্থিতি ছিল এক বড় আকর্ষণ। তাঁরা পর্দায় যখন স্বামী-স্ত্রী বা যুগল হিসেবে আসতেন, তখন তাঁদের মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা থাকত না; মনে হতো এটি আমাদেরই পাশের বাড়ির কোনো পরিচিত গল্প।
জনপ্রিয়তা ও সামাজিক প্রভাব: এই জুটির জনপ্রিয়তার মূল রহস্য ছিল তাঁদের চরিত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর বিশ্বাস। রঞ্জিত মল্লিক ছিলেন সেই সময়ের ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ এবং ‘বেল্ট-ম্যান’ (অন্যায়ের বিরুদ্ধে বেল্ট দিয়ে শাস্তি দেওয়া), যা সাধারণ মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস জোগাত। আর চুমকি চৌধুরী ছিলেন আদর্শ বাঙালি নারী বা গৃহবধূর প্রতীক। গ্রামের গঞ্জ থেকে শুরু করে কলকাতার প্রেক্ষাগৃহ—সব জায়গায় এই জুটির সিনেমা মানেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। তাঁদের সিনেমাগুলো কেবল বিনোদন নয়, বরং সমাজের নীতি-নৈতিকতা শিক্ষার এক মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
রঞ্জিত মল্লিক এবং চুমকি চৌধুরী জুটি প্রমাণ করেছিলেন যে, পর্দায় জনপ্রিয়তা পেতে হলে কেবল গ্ল্যামার নয়, বরং সাধারণ মানুষের আবেগ ও সংবেদনশীলতাকে ছুঁতে হয়। আজ কয়েক দশক পার হয়ে গেলেও বাংলা সিনেমার সেই নস্টালজিক দিনগুলোর কথা মনে পড়লে রঞ্জিত-চুমকি জুটির সেই সাবলীল অভিনয়ের কথা পরম শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হয়।