

কাশিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কাশিনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী মুন্সি এবং তার পরিবারের সদস্য (অন্যান্য ভাইদের সন্তান)'দের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক কাশিনাথপুর আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের জায়গা (মাঠের পশ্চিম পাশে) কোন প্রকার মাপঝোঁক ছাড়া মার্কেট নির্মাণের মাধ্যমে দখল চেষ্টা ও কাশিনাথপুর আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে কোন রকম আলোচনা ছাড়া মসজিদ কমিটির যোগসাজশে স্কুল মসজিদের ওযুখানা ভাঙ্গচুর পূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে অত্র মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করা মুসল্লী সহ স্থানীয়দের মধ্যে।এছাড়াও অভিযুক্ত পরিবারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের মাঠের নিচ দিয়ে পাইপ স্থাপনের মাধ্যমে গোটেংড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্কুলের পুকুরে বাসা বাড়ী ও মার্কেটিং নোংড়া পানি ও মল মুত্র স্থানান্তরের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।এতে চরম ভোগান্তি ও রোগের আশংকায় ভুগছে গোটেংড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমলমতি শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, কাশিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মুন্সী জায়গা দান পুর্বক প্রতিষ্ঠা করেন কাশিনাথপুর আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়।অত্র বিদ্যালয়ের মাঠ সংলগ্ন (পশ্চিম পাশে) তার সম্পত্তি বিরাজমান। তবে স্কুল ও তার সম্পত্তির নির্দিষ্ট কোন সীমানা প্রাচীর নাই। সম্প্রতি প্রয়াত আব্দুল লতিফ মুন্সীর উত্তরাধিকার গণ (ইদ্রিস মুন্সি ও তার ভাতিজারা) মাপঝোঁক না করেই মার্কেট নির্মান শুরু করে। বিষয়টি সুরাহার জন্য সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেন কাশিনাথপুর আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান।
এছাড়াও গত ৬ ও ৭ জুলাই কাশিনাথপুর আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন মসজিদের ওযুখানা টিনসেড ছাদ ভাঙ্গচুর করে তারা। এরপর মসজিদের সীমানা প্রাচীর ভাঙ্গার চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা।এতে কাশিনাথপুর এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজিত পরিবেশ সৃষ্টি হয়।পরবর্তীতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে তাদের কার্যক্ষম স্থগিত করা হয়।
এবিষয়ে কাশিনাথপুর আব্দুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান বলেন, মুন্সী পরিবারের সদস্যরা মাপঝোঁক ছাড়া আমাদের মাঠের পাশ দিয়ে মার্কেট নির্মাণ করে। আমরা বিদ্যালয়ের জায়গা মাপার জন্য ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।মসজিদের ওযুখানা ভাঙ্গচুর বিষয়ে তিনি বলেন,মসজিদটি বিদ্যালয়ের। আমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, আমাকে অবহিত না তারা মসজিদ কমিটির সাথে সমন্বয় পুর্বক মসজিদের কোন স্থাপনা নির্মাণও করতে পারেনা। আর মসজিদের ওযুখানা ভাঙ্গা তো রীতিমত বেআইনি।
কাশিনাথপুর হাই স্কুল মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করা কয়েকজন মুসল্লি বলেন,তারা ক্ষমতার মসজিদের ওযুখানা ভেঙে ফেলেছে।এখন বৃষ্টির মধ্যে মুসল্লিরা ভিজেপুড়ে ওযু করতে হচ্ছে।
গোটেংড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েক ছাত্র-ছাত্রী জানায়, পুকুরের পানিতে নোংরা বর্জ্য ও মল মিশ্রিত পানি মিশে তীব্র দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা প্রচন্ড স্বাস্থ্য ঝঁকিতে রয়েছি।
অভিযুক্ত মুন্সী পরিবারের একজন প্রতিনিধি জানান,আমরাও চাই আমাদের জায়গা মাপঝোঁক করে সীমানা নির্ধারিত হোক। আমরা মসজিদের ওযুখানা ভাঙ্গি নি বরং মসজিদ কমিটির সাথে সমন্বয় পুর্বক নিজেদের অর্থায়নে কবরস্থানের সৌন্দর্য বৃদ্ধিকল্পে অন্যত্র স্থাপন করতে কাজ করছিলাম। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানানো টা উচিত হয় নি।
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না বলেন, বিদ্যালয়ের জায়গা মাপার জন্য বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি আবেদন দিয়েছে,অতিদ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও মসজিদের ওযুখানা ভাঙ্গচুরের কথা শুনেছি তবে কারা এ কাজ করেছে নিশ্চিত জানতে পারি নি। বিদ্যালয় ও মসজিদের মুসল্লীদের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নি, তবুও বিষয়টির সমাধান কল্পে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।