

দুর্গাপুর প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী–৫ (পুঠিয়া–দুর্গাপুর) আসনে মসজিদ নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী ব্যারিস্টার রেজাউল করিম। তিনি এ আসন থেকে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। ব্যারিস্টার রেজাউল করিম লন্ডন জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি দাবি করছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ব্যারিস্টার রেজাউল করিমকে দাবি করতে দেখা যায়, তিনি নাকি একাই ৭০০টি মসজিদ পরিচালনা করেন। তার এই বক্তব্য স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিম এ বক্তব্য বাস্তবতা বিবর্জিত ও ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীরা।
এদিকে পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউনিয়নের একটি রাজনৈতিক আলোচনায় বিএনপির এক নেতা ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, “উনি খালি ৭০০ মসজিদ চালান—এমনটাই না। জিউপাড়া ইউনিয়ন থেকে শুনে এসেছি, লন্ডনে নাকি তারেক রহমানও কেউ এসব চালান!”
তবে বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী ব্যারিস্টার রেজাউল অতিরঞ্জিত বক্তব্যের কারণেই এমন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এব্যাপারে দুর্গাপুর উপজেলার পাঁচবাড়ি বাজার জামে মসজিদের পেশ ইমাম আনিসুর রহমান বলেন, “মসজিদ আল্লাহর ঘর। এটিকে ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণ বা রাজনৈতিক প্রভাব দেখানোর মাধ্যম বানানো অনুচিত ও ইসলামসম্মত নয়।” একজন রাজনৈতিক ভোটের প্রার্থীর এ ধরনের বক্তব্য সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে।
দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জোবায়েদ হোসেন বরেন, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণেই ব্যারিস্টার রেজাউল করিমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বিতর্কীত এমন বক্তব্য সাধারন ভোটারদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, রেজাউল করিমের ভাইরাল হওয়া বক্তব্য রাজনৈতিক মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি রাজশাহী ও পুঠিয়া-দুর্গাপুর বিএনপির কেউ না।
তবে সচেতন মহল মনে করছেন, নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা অনুভূতি ব্যবহার করে ভোট প্রভাবিত করা নিষিদ্ধ। এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দূর্গাপুর) আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিমের মুঠো ফোন একাধিকবার ফোন দিলে ফোন রিসিভ না হওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি