

বিনোদন ডেস্কঃ
ঝলমলে গ্ল্যামার আর ডিজিটাল পর্দার রঙিন দুনিয়ায় অনেক নাম আমাদের পরিচিত হয়ে ওঠে। এমনই দুটি নাম সিরি ডাহল এবং মেলোডি মার্ক্স। তাঁদের শুরুটা হয়তো হয়েছিল কেবল কৌতূহল কিংবা শখের বশে, কিন্তু সেই সাময়িক সিদ্ধান্ত যে তাঁদের জীবনের মোড় চিরতরে বদলে দেবে, তা হয়তো তাঁরা নিজেরাও শুরুতে বুঝতে পারেননি।
আজ তাঁরা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়, কিন্তু এই জনপ্রিয়তার সাথে মিশে আছে এক অদ্ভুত বিষাদ। তাঁদের কাজ মানুষ নিভৃতে দেখে, গোপনে প্রশংসা করে; কিন্তু সমাজের প্রকাশ্য মঞ্চে তাঁরা কেবলই উপহাসের পাত্র। এই যে সমাজের দ্বিমুখী আচরণ—একদিকে নিভৃত আকর্ষণ আর অন্যদিকে প্রকাশ্য ঘৃণা—এটি একজন মানুষের অস্তিত্বকে তিলে তিলে ক্ষয় করে ফেলে। তাঁদের পরিচিতি অনেক, কিন্তু সেখানে সামাজিক শ্রদ্ধার জায়গাটি খুব নড়বড়ে। এই ‘কুখ্যাতি’র বোঝা বয়ে বেড়ানো যে কত বড় মানসিক যন্ত্রণা, তা কেবল পর্দার ওপারে থাকা মানুষটিই অনুভব করতে পারেন।
ভুলের আবর্ত ও প্রত্যাবর্তনের লড়াই এখন প্রশ্ন জাগে, এই পথে যাওয়া কি তাঁদের ঠিক হয়েছিল? জীবনের কঠিন সমীকরণে পড়ে মানুষ যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তখন ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদী অন্ধকার দিকগুলো সচরাচর চোখে পড়ে না। তাঁরা হয়তো সচ্ছলতা বা পরিচিতি পেয়েছেন, কিন্তু বিনিময়ে হারিয়েছেন সাধারণ এক টুকরো সুস্থ সামাজিক জীবন।
তাঁরা কি পারবেন সঠিক পথে ফিরতে? জীবন কখনও থেমে থাকে না। মানুষ তাঁর অতীতের ভুল সংশোধন করে আলোর পথে আসতেই পারে। কিন্তু আমাদের সমাজ কি তাঁদের সেই সুযোগ দেবে? যেখানে ইন্টারনেটের মেমোরি কোনো কিছু ভোলে না, সেখানে কলঙ্ক মুছে ফেলে নতুন করে পথ চলা এক অসম লড়াইয়ের মতো।
সিরি ডাহল কিংবা মেলোডি মার্ক্সদের জীবনের এই নীল দীর্ঘশ্বাস আমাদের এক গভীর সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়। সাময়িক মোহের বশে বা শখের ছলে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনেক সময় আজীবনের আক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের এই গল্প আমাদের শেখায় যে, সস্তায় পাওয়া জনপ্রিয়তার চেয়ে আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা অনেক বেশি শান্তিময়।