1. abkiller40@gmail.com : admin : Abir Ahmed
  2. ferozahmeed10@gmail.com : moderator1818 :
৫ দফা দাবিতে ৮ দলের উদ্যোগে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত.. - Barta24TV.com
ভোর ৫:২৮, শুক্রবার, ৯ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৫ দফা দাবিতে ৮ দলের উদ্যোগে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত..

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৫
  • 134 Time View

রাজশাহী প্রতিনিধি :

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি, গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে আট দলের উদ্যোগে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে আয়োজিত এ সমাবেশে ৮ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা পরিবর্তন ও সুশাসনের বার্তা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, আগামীর সংসদ হবে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত। অতীতে যারা চাঁদাবাজি করেছে তাদের আর পথ নেই। কুরআনের নীতি অনুযায়ী সংসদ-সচিবালয়-বিচারব্যবস্থা পরিচালিত হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৮ দলের জোট দেশের রাজনীতিতে নতুন জাগরণ তৈরি করেছে। জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট দিতে হবে। একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, হ্যাঁ ভোট মানে ফ্যাসিবাদবিরোধী নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে সমর্থন। জনগণের ম্যান্ডেট নষ্টের চেষ্টা করা হলে দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাতেও তীব্র নিন্দা জানান পরওয়ার।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, একটি দল চান্দা পার্টিতে পরিণত হয়েছে। তারা পোস্টার ছিঁড়লেও মানুষের মন থেকে সমর্থন মুছতে পারবে না। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিন, ব্যালটে পরিবর্তন আনুন।

তিনি আরও দাবি করেন, একই দিনে গণভোট আয়োজনের কোনো নজির নেই এবং এটি সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান সমাবেশে বলেন, একটি দলকে তিনি ‘চান্দা পার্টি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন যে আগামী নির্বাচনে জনগণ বুলেটের জবাব ব্যালটে দেবে। তিনি আরও বলেন, আল্লাহ ছাড় দেয়, ছেড়ে দেয় না—রাকসু নির্বাচন তার প্রমাণ। দেশে তিনবার গণভোট হয়েছে, কিন্তু কখনোই নির্বাচনের দিনে নয়। ইতিহাসেও একইদিনে নির্বাচন ও গণভোটের নজির নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই বলেছেন, একইদিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

রাশেদ প্রধান দাবি করেন, যারা গণভোটের আয়োজন করছেন তারা পরিস্থিতি বুঝে গেছেন, কিন্তু বিএনপি বোঝেনি।
জনগণ সব বুঝে গেছে, কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো বুঝতে পারেনি,”—মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে চিনেছে এবং ‘গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ’ নিষিদ্ধ হয়েছে, কিন্তু তাদের সহযোগী জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। এসময় তিনি ১৪ দলকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।

রাশেদ প্রধান আরও বলেন, চান্দা পার্টি পোস্টার ছিঁড়ছে। ৮ দলের নেতাদের পোস্টার ছিঁড়তে পারে, কিন্তু মানুষের মন থেকে সমর্থন মুছতে পারবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় বুলেট ছোড়া হচ্ছে। জনগণ বুলেটের জবাব ব্যালটে দেবে। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিন, ৮ দলের প্রতীকে সিল দিন।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পূর্বেই গণভোট দিতে হবে। একইদিনে নির্বাচন ও গণভোট হতে পারে না। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ হয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। খুনীদের বিচার করতে হবে। উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, গণভোটে একটি দল ‘না’ এর পক্ষে গেছে। জনগণ হ্যাঁ দিয়ে তাদের না করে দেবে। জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিন, হ্যাঁ-কে জয়যুক্ত করুন। ইসলামের বাক্সে ভোট পড়বে ইনশাআল্লাহ।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চায়। চাঁদাবাজদের মানুষ দেখতে চায় না। ঐক্য ধরে রাখতে হবে, যাতে কেউ ভাঙন ধরাতে না পারে। কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে জনগণের কাছে যেতে হবে।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারি বলেন, রক্ত দিয়েছি, আরও দেব, তবু জুলাই সনদ কার্যকর করে আগে গণভোট চাই। গণভোট ছাড়া নির্বাচন হতে দেব না। ৪৭ সাল থেকে লড়াই করছিআল্লাহর আইন ও কুরআনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব ইনশাআল্লাহ।

রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ও সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ইমাজ উদ্দিন মন্ডল ও মুফতি ইমরানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শেখ মো. নুরুন্নবী
বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি শেখ মো. সালাউদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ রোকনুজ্জামান রোকন, জামায়াতের মহানগর আমির ড. মাওলানা কেরামত আলী, নায়েবে আমির ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ,রাকসুর ভিপি ও ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category